EREV নিয়ে সন্দিহান Mercedes-Benz
ছবিঃ Mercedes
সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাপারে ক্রেতারা সন্দিহান থাকায় ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে Extended-Range Electric Vehicle (EREV)। তবে Mercedes-Benz মনে করে, তাদের ক্রেতাদের জন্য এমন গাড়ির প্রয়োজন নেই।
জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির মতে, তাদের বর্তমান Plug-in Hybrid (PHEV) মডেলগুলোতেই দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট বৈদ্যুতিক রেঞ্জ রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ যাত্রার জন্য আছে পেট্রল ইঞ্জিন। অর্থাৎ Mercedes-এর দাবি, EREV যে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে, তারা সেটির সমাধান আগেই করে ফেলেছে।
EREV প্রযুক্তি নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে Mercedes-Benz-এর প্রোডাক্ট স্ট্র্যাটেজি ও প্রোডাক্ট স্টিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট Christoph Starzynski অটোমোটিভ বিষয়ক ওয়েবসাইট Motor1-কে কোম্পানির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের এমন একটি Plug-in Hybrid রয়েছে, যা একবার চার্জে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি চলতে পারে। আমার মতে, প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য এটুকু রেঞ্জ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। [...] এর বাইরে আর কী দরকার? আমি জানি, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে EREV-এর চাহিদা বেশি। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ আমাদের ক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, তেমন চাহিদা আমরা দেখছি না।”
প্রচলিত Plug-in Hybrid-এ বৈদ্যুতিক মোটর অথবা জ্বালানি ইঞ্জিন—দুটির যেকোনোটি দিয়ে গাড়ি চালানো যায়। EREV-এর ক্ষেত্রে চাকা ঘোরানোর কাজটি করে বৈদ্যুতিক মোটর। ব্যাটারির চার্জ কমে গেলে গাড়িতে থাকা ছোট পেট্রল ইঞ্জিন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেনারেটর হিসেবে কাজ করে। ফলে শুধু চার্জিং স্টেশনের ওপর নির্ভর না করেও দীর্ঘ দূরত্ব বৈদ্যুতিক শক্তিতে পাড়ি দেওয়া যায়।
ইউরোপে Mercedes-Benz-এর Plug-in Hybrid মডেলগুলো এক চার্জে ৭৭ মাইলের বেশি, অর্থাৎ ১২৪ কিলোমিটারেরও বেশি বৈদ্যুতিক রেঞ্জ দিতে পারে। এগুলোতে DC ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। ফলে দীর্ঘ বিরতিতে তুলনামূলক কম সময়ে ব্যাটারি চার্জ করে নেওয়া যায়। আর পথে ব্যাটারি চার্জ শেষ হয়ে গেলে, বাকি দূরত্ব পাড়ি দেবার জন্য পেট্রোল ইঞ্জিন তো রয়েছেই।
জার্মান ব্র্যান্ডটির কাছে সমন্বয়টি যথেষ্ট যুক্তিসংগত। প্রতিদিনের যাতায়াত শুধু বৈদ্যুতিক শক্তিতে করা সম্ভব, আবার দীর্ঘ যাত্রার পরিকল্পনাও চার্জিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে সাজাতে হয় না।
PHEV-এর বৈদ্যুতিক রেঞ্জ প্রায় ৬০ মাইল থেকে বাড়িয়ে ২০০ মাইল করলে ক্রেতারা সত্যিই গাড়ি বদলাতে আগ্রহী হবেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন Starzynski। তিনি বলেন, “আপনি কি সত্যিই এমন একটি সংস্করণ চাইবেন, যেখানে রেঞ্জ ৬০ মাইল থেকে বেড়ে ২০০ মাইল হবে? সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে আমার মনে হয়, ২৮০ থেকে ৪০০ মাইল রেঞ্জই যথেষ্ট।”
তাঁর যুক্তি সহজ। যাঁরা বৈদ্যুতিক শক্তিতে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে চান, তাঁরা সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি বা Battery Electric Vehicle (BEV) কিনতে পারেন। আর যাঁরা পেট্রল ইঞ্জিনের বাড়তি সুবিধা রাখতে চান, তাঁরা Plug-in Hybrid বেছে নিতে পারেন। এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা EREV তৈরি করে বাড়তি বিনিয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে Mercedes-এর।
তার মানে অবশ্য এই নয় যে EREV প্রযুক্তির কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে চার্জিং অবকাঠামো সীমিত এবং অনেক ক্রেতাই পুরোপুরি ব্যাটারিনির্ভর গাড়ির ওপর ভরসা করতে চান না, সেখানে পেট্রলচালিত জেনারেটর বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার আরও সহজ করে তুলতে পারে। যাঁরা সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত গাড়িতে না গিয়েও দীর্ঘ বৈদ্যুতিক রেঞ্জ চান, তাঁদের কাছে প্রযুক্তিটি আকর্ষণীয়।
তবে আপাতত Mercedes-Benz নিজেদের ক্রেতাদের মধ্যে এমন সমাধানের যথেষ্ট চাহিদা দেখছে না। আর তাদের যুক্তিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে একটি বিলাসবহুল গাড়ির ডিলার তাদের ক্রেতারা প্রতিদিন গড়ে কত দূর গাড়ি চালান, তা জানতে জরিপ চালিয়েছিল।
ফলাফল ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৮ কিলোমিটার! যা ১২৪ কিলোমিটার রেঞ্জ সহ একটি ব্যাটারির জন্য একেবারে সামান্য।
আপাতত Mercedes-Benz অন্য নির্মাতাদের EREV প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিতে আগ্রহী। কারণ, গাড়িতে বাড়তি ব্যাটারি এবং পেট্রলচালিত জেনারেটর যোগ করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ভালো হয়ে যায় না। কখনো কখনো কোনো সমস্যার জন্য ব্যয়বহুল প্রকৌশলগত সমাধান খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্রেতার আসলে সমস্যাটিই নেই।
সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাপারে ক্রেতারা সন্দিহান থাকায় ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে Extended-Range Electric Vehicle (EREV)। তবে Mercedes-Benz মনে করে, তাদের ক্রেতাদের জন্য এমন গাড়ির প্রয়োজন নেই।