জ্বালানি ইঞ্জিন থেকে অনড় Mazda

ছবিঃ Mazda

বিশ্বজুড়ে গাড়িশিল্প যখন শতভাগ বৈদ্যুতিকরণের দিকে ছুটছে, জাপানি অটোমোবাইল নির্মাতা Mazda তখনো জ্বালানি ইঞ্জিন ছাড়তে পুরোপুরি নারাজ।

ব্যাটারি-ইলেকট্রিক প্ল্যাটফর্মের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের বদলে কম্বাশন ইঞ্জিনকে যত দিন সম্ভব বাঁচিয়ে রাখার এই উল্টো স্রোতের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেকেবেশ গর্বের সাথেই ‘rebel with a cause’ বা আদর্শিক বিদ্রোহী বলে অভিহিত করছে।

সংবাদমাধ্যম Car Magazine-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Mazda Europe-এর প্রোডাক্ট প্ল্যানিং অ্যান্ড কো-ক্রিয়েশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার Moritz Oswald প্রতিষ্ঠানটির এই আপোসহীন অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের কৌশলের অন্যতম অংশ হলো—আমরা সঠিক গ্রাহকের জন্য সঠিক ইঞ্জিন নিশ্চিত করতে চাই।" ধীরগতির রূপান্তরের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি জানান, "আমরা কালকেই কম্বাশন ইঞ্জিনের ইতি টানতে যাচ্ছি না। বিশ্বব্যাপী কম্বাশন ইঞ্জিন এখনো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।" বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো বড় বাজারগুলোতে যেখানে ইউরোপের তুলনায় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার অনেক ধীরগতির, সেখানে এই ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ চলার বিপজ্জনক দিকটিও স্বীকার করেছেন Oswald। তাঁর মতে, ধারার বিপরীতে গিয়ে 'বিদ্রোহী' হওয়া এবং অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগে প্রতিযোগীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার মধ্যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি সীমারেখা রয়েছে।

Toyota ও BMW-র মতো বড় প্রতিষ্ঠানের দেখানো 'মাল্টি-পাথওয়ে' কৌশলের পথ ধরেই Mazda-র যুক্তি—ভোক্তাদের বিচিত্র অভ্যাস, ভঙ্গুর চার্জিং অবকাঠামো এবং দেশভেদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পার্থক্যের কারণে সবার ওপর এক নিয়মে কেবল ইলেকট্রিক গাড়ি চাপিয়ে দেওয়ার চিন্তা অবাস্তব। তাই ল্যাব বন্ধ করার বদলে প্রতিষ্ঠানটি কম্বাশন ইঞ্জিনের সাথে আধুনিক হাইব্রিড প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে, যাতে পরিবেশ রক্ষার কঠোর নিয়মকানুনও মানা যায়, আবার পিস্টনের গর্জনও থেমে না যায়।

এই লড়াইয়ের তুরুপের তাস হলো তাদের নতুন Skyactiv-Z ইঞ্জিন। সম্পূর্ণ নতুন এই 2.5-liter naturally aspirated ফোর-সিলিন্ডার পাওয়ারপ্ল্যান্টটি ২০২৭ সালের শেষের দিকে পরবর্তী প্রজন্মের CX-5 মডেলে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে। Mazda-র প্রথম সম্পূর্ণ নিজস্ব হাইব্রিড সিস্টেমের সাথে যুক্ত এই ইঞ্জিনটি বিদায়ী Skyactiv-G ও Skyactiv-X ইউনিটের চেয়ে অনেক বেশি থার্মাল এফিশিয়েন্সি দেবে, তা-ও আবার কোনো ধরণের থ্রটল রেসপন্স নষ্ট না করেই। এই প্রকল্পের সাফল্য ভবিষ্যতে তাদের ঐতিহ্যবাহী রিয়ার-ড্রাইভ ইনলাইন-সিক্স এবং রোটারি ইঞ্জিনের পরীক্ষানিরীক্ষায় ব্যবহার করা হবে। যদিও নতুন প্রজন্মের MX-5 Miata-তে এটি থাকবে কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে একটি সম্পূর্ণ নতুন রোডস্টার তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ঠিকই রয়েছে।

অন্যদিকে গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা পূরণে অভিনব এক পথ নিয়েছে Mazda। চীনের Changan Mazda যৌথ উদ্যোগের ওপর ভর করে তারা বাজারে এনেছে 6e লিফটব্যাক এবং CX-6e ক্রসওভার। দুটি গাড়িই Changan-এর চীনা প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

অবশ্য, পিস্টনের প্রতি Mazda-র এই আবেগঘন অঙ্গীকার যান্ত্রিক গাড়িপ্রেমীদের জন্য কোনো কালজয়ী বীরত্বগাথা হয়ে থাকবে, নাকি প্রযুক্তির অগ্রগতিকে অস্বীকার করে এক খামখেয়ালি ব্র্যান্ডের হারিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস—তা কেবল সময়ই বলে দেবে

Previous
Previous

ইউরোপে Ford-এর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে BYD

Next
Next

আসছে Hot Wheels-র বেগুনি Porsche 959