অবসরে যাচ্ছে Mazda-র Skyactiv-X

ছবিঃ Mazda

Mazda তাদের ‘আদর্শ জ্বালানি ইঞ্জিন’ তৈরির পথে এগোচ্ছে। কিন্তু এই প্রচেষ্টার নেতিবাচক প্রভাবে অচিরেই বিদায় নিবে প্রতিষ্ঠানটির অত‍্যন্ত উচ্চাভিলাষী ইঞ্জিনগুলোর একটি।

Auto Express-এর তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন Mazda3 থেকে ২.০-লিটার Skyactiv-X ইঞ্জিনটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হ্যাচব্যাকটিতে এখন শুধু থাকবে ২.৫-লিটার Skyactiv-G ইঞ্জিন, যার সাথে বেছে নেওয়া যাবে ম্যানুয়াল অথবা অটোমেটিক গিয়ারবক্স। দুঃখজনকভাবে, নতুন ইঞ্জিনটি বিদায়ী Skyactiv-X-এর তুলনায় যথেষ্ট কম শক্তি উৎপাদন করে।

তবে বিশ্ব বাজার থেকে Skyactiv-X এখনই পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে ইঞ্জিনটি সহ পাওয়া যাবে CX-30 ক্রসওভারটি।

২০১৯ সালে Mazda3 ও CX-30-এর মাধ্যমে বাজারে আসে Skyactiv-X। যুক্তরাষ্ট্রে কখনো ইঞ্জিনটি বিক্রি করা হয়নি। তবে এর মাধ্যমে Mazda এমন একটি প্রযুক্তিকে উৎপাদিত গাড়িতে নিয়ে আসে, যা নিয়ে Ford, General Motors এবং Honda-সহ অনেক নির্মাতাই দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বাজারে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রযুক্তিটির নাম Homogeneous-Charge Compression Ignition (HCCI)। HCCI-এর মূল ধারণা হলো পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিনের ভালো দিকগুলো একসঙ্গে কাজে লাগানো। Mazda অবশ্য প্রযুক্তিটির নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে, যার নাম Spark Controlled Compression Ignition বা SPCCI। এখানে স্পার্ক প্লাগ শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে জ্বালানি পোড়ায় না, বরং কম্প্রেশনের মাধ্যমে ইগনিশন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

বিষয়টি কিছুটা জটিল। Skyactiv-X সাধারণত অত্যন্ত লিন এয়ার-ফুয়েল মিশ্রণে চলে, যা নির্ভরযোগ্যভাবে জ্বালানো বেশ কঠিন। তাই কম্প্রেশন স্ট্রোকের শেষ মুহূর্তে অল্প পরিমাণ অতিরিক্ত জ্বালানি ইনজেক্ট করা হয়। এতে স্পার্ক প্লাগের চারপাশে তুলনামূলক সমৃদ্ধ একটি মিশ্রণ তৈরি হয়। স্পার্ক প্লাগে আগুন জ্বললে কম্বাশন চেম্বারের চাপ ও তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়, যা পুরো কম্বাশন চেম্বারের লিন মিশ্রণকেও জ্বালিয়ে দেয়।

এর ফলে তৈরি হয়েছিল এমন এক ইঞ্জিন, যা পারফরম্যান্সে ছাড় না দিয়েই জ্বালানি সাশ্রয় বাড়াতে সক্ষম। প্রকৌশলবিদ্যার দিক থেকে এটি ছিল বেশ চমৎকার একটি উদ্ভাবন, যদিও Mazda-র পুরো মডেল লাইনআপে এর উপস্থিতি ততটা বিস্তৃত হয়নি।

এবার Skyactiv-X-এর জায়গা নিতে আসছে Skyactiv-Z। এটি একটি নতুন হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন, যেখানে সম্পূর্ণ নতুন ২.৫ লিটারের চার সিলিন্ডার ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকবে Mazda-র নিজস্ব হাইব্রিড সিস্টেম। পরবর্তী প্রজন্মের CX-5-এ এই পাওয়ারট্রেনটি প্রথম ব্যবহার করা হবে। গাড়িটি বাজারে আসবে আগামী বছর।

নতুন ইঞ্জিনেও থাকবে SPCCI প্রযুক্তি, তবে এবার আরও লিন এয়ার-ফুয়েল মিশ্রণ পোড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে Mazda। পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে নতুন হিট-ইনসুলেশন প্রযুক্তি। ইঞ্জিন থেকে বেরিয়ে যাওয়া তাপকে নষ্ট হতে না দিয়ে সেটিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত শক্তি উৎপাদন করাই এর উদ্দেশ্য।

অর্থাৎ, Skyactiv-X-এর বিদায়ঘণ্টা বাজলেও Mazda-র কম্বাশন ইঞ্জিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থামছে না। বরং প্রযুক্তিটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে Mazda-এর কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নেই। যদিও দেশের রাস্তায় বেশ কয়েকটি MX-5 ও Axela দেখা যায়। ব্যক্তিগত আমদানির মাধ্যমে নতুন Skyactiv ইঞ্জিনযুক্ত কিছু গাড়িও দেশে আসতে পারে। কিন্তু Mazda আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে আসার দীর্ঘদিনের গুঞ্জন বাস্তব রূপ না পাওয়া পর্যন্ত ব্র্যান্ডটির স্থানীয় উপস্থিতি কেবল কল্পনাতেই থেকে যাবে।

Previous
Previous

মুনাফা সংকটে চীনের গাড়িবাজার

Next
Next

২,৯০০ কোটি টাকার লোকসানে Aston Martin