গাড়িতে বসে গালিগালাজের সুযোগ করে দিল Mazda

ছবিঃ Mazda

রাস্তায় জ্যামে আটকে থাকা অবস্থায় আপনার কি কখনো সামনের গাড়িটির চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করার ইচ্ছে হয়েছে? তাহলে Mazda দুর্ঘটনাবশত আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সুখবর।

সম্প্রতি Mazda-র নতুন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক 'CX-6e' ক্রসওভার গাড়িতে পথচারীদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্ত করা লাউডস্পিকার ফিচারটিতে কোন ধরনের আপত্তিকর কথা বা গালিগালাজ রোখার ফিল্টার (Profanity Filter) না রেখে বিপাকে পড়েছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি।

মূলত চালকহীন বা নিঃশব্দ বৈদ্যুতিক গাড়ির উপস্থিতি থেকে পথচারী ও সাইকেল চালকদের সতর্ক করতে গাড়িটির সামনে এই বিশেষ স্পিকার বা পিএ (Public Address) সিস্টেম বসানো হয়েছিল।

সাধারণ সতর্ক বার্তার পাশাপাশি জাপানের প্রতিষ্ঠানটি গাড়ির বিশাল ২৬.৪৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিনে টাইপ করা শব্দকে সরাসরি কণ্ঠস্বরে রূপান্তর করার সুবিধাও এতে জুড়ে দিয়েছে।

অর্থাৎ চালক চাইলে সরাসরি মাইক্রোফোন ব্যবহার করে কিংবা পছন্দের কোনো বার্তা টাচস্ক্রিনে শর্টকাট হিসেবে সেভ করে রেখে যখন ইচ্ছা বাইরের মানুষদের শোনাতে পারবেন।

বুদ্ধিটা চমৎকার, সমস্যা হচ্ছে মানুষের স্বভাব।

Australia-র অস্ট্রেলিয়ার বাজারে চীনে তৈরি এই ইলেকট্রিক গাড়িটি পরীক্ষা করার সময় সাংবাদিকরা খেয়াল করেন, Mazda তাদের সফটওয়্যারে অশালীন ভাষা বা কটূক্তিসূচক শব্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে দেবার কোনো ফিল্টার যুক্ত করেনি। ফলে স্ক্রিনে টাইপ করা বা মাইক্রোফোনে বলা যেকোনো বাজে কথা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই বাইরে উচ্চশব্দে সম্প্রচারিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মত বাজারে বিক্রি হওয়া বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোতে কেবল সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু সুর বা টোন বাজানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ইউরোব এবং অস্ট্রেলিয়ার বাজারগুলোতে Mazda-র এমন ব্যবহারকারী কতৃক নিয়ন্ত্রিত ফিচার নিয়ে আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ট্রাফিক ও জনশৃঙ্খলা আইনে জনসম্মুখে কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ বা লাউডস্পিকারের অপব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; যেখানে Western Australia-তে এ ধরনের অপরাধের জন্য ৪,১৭০ মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫,২১,২৫০ টাকা) পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

সফটওয়্যারের এই অমার্জনীয় খামখেয়ালিপনা দূর করতে ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেট আনার কোনো ঘোষণার খবর এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

Mazda তাদের বিজ্ঞাপনে এটিকে একটি উদ্ভাবনী নিরাপত্তা ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তবে বাস্তবতা হলো, উপযুক্ত ফিল্টার ছাড়া সাধারণ সুরক্ষার এই ফিচারটি রাস্তায় অন্যান্য চালক ও পথচারীদের সাথে তর্কে জড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হতে যাচ্ছে, তা বলা বাহুল্য।

Previous
Previous

১০১৬ হর্সপাওয়ারের বৈদ্যুতিক ইট আনল Jaguar

Next
Next

বাস্তব হল Street Fighter-এর Lexus