রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড গাড়ি আনছে Toyota

ছবিঃ Toyota

অবশেষে ব্যাটারির সাথে ইঞ্জিন যুক্ত করছে Toyota।

সমস্যা হলো, এই গাড়ি বিক্রি হবে শুধু চীনে।

চীনা বাজারের জন্য প্রথমবারের মতো এক্সটেন্ডেড-রেঞ্জ ইলেকট্রিক ভেহিকল (EREV) আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপানি অটোমোবাইল জায়ান্ট Toyota। স্থানীয় বাজারে গ্রাহকদের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রচলিত মাইল্ড হাইব্রিড গাড়ির বাজারে বিপুল পরিমাণে বিক্রি ধরে রাখতে পারলেও ব্যাটারি-ইলেকট্রিক এবং রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড সেগমেন্টে প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছিল। সেই ঘাটতি মেটাতেই চীনে স্থানীয়ভাবে এই বিশেষ গাড়ি তৈরির কৌশল নিয়েছে তারা।

Nikkei Asia-র এক প্রতিবেদনের থেকে জানা যায়, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে চীনে এই এক্সটেন্ডেড-রেঞ্জ মডেলটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা করেছে Toyota। উৎপাদনের শুরুতে প্রতি মাসে মাত্র কয়েকশ ইউনিট করে তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে তা দ্রুত গতি পাবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২ লাখ ইউনিটে উন্নীত করা হবে। এরপর ২০২৮ সালে স্থানীয় উৎপাদন পুরোদমে চালু হলে তা দ্বিগুণ হয়ে বার্ষিক প্রায় ৪ লাখ ইউনিটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যান্ত্রিক কাঠামোর দিক থেকে এই গাড়িতে সরাসরি চাকা ঘোরানোর কাজটি সম্পন্ন করবে একটি বৈদ্যুতিক মোটর। তবে এতে থাকা বিশেষ ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনটি চাকার সাথে প্রত‍্যক্ষভাবে যুক্ত না থেকে কেবল একটি অন-বোর্ড জেনারেটর হিসেবে কাজ করবে এবং ব্যাটারি প্যাক রিচার্জ করবে। এই প্রকৌশল ব্যবস্থাটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে উন্মোচিত 2027 Nissan Rogue Hybrid-এর প্রযুক্তির অনুরূপ।

যেসব গ্রাহক এখনো পুরোপুরি ব্যাটারি-ইলেকট্রিক গাড়িতে যেতে দ্বিধাগ্রস্ত কিংবা বড় শহরের বাইরে পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো না থাকা নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প সমাধান হিসেবে কাজ করবে। মুলত প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের উপর কোন বৈশ্বিক ফর্মুলা চাপিয়ে না দিয়ে স্থানীয় রুচি ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে সামঞ্জস‍্যপূর্ণ একটি পণ‍্য তৈরি করছে।

চীনা বাজারে বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতাদের কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপটি সামনে এলো। গুঞ্জন রয়েছে যে BMW-ও তাদের পুরনো i3 সিটি কারে ব্যবহৃত রেঞ্জ-এক্সটেন্ডার প্রযুক্তি চীনের জন্য পুনরায় বিবেচনা করছে, যার মধ্যে নতুন লং-হুইলবেস iX5 এবং পরবর্তী প্রজন্মের X7-এর মতো মডেল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এর মানে এই নয় যে তারা তাদের হাইড্রোজেনের স্বপ্ন ভুলে গেছে। Toyota ও BMW যৌথভাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে হাইড্রোজেনে বিপুল বিনিয়োগের কারণে Toyota ব্যাটারি-ইলেকট্রিক ও রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণে পিছিয়ে পড়েছিল।

ফলে স্থানীয় চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে নেওয়া এই নতুন পাওয়ারট্রেন কৌশল খুব বেশি দেরিতে এলো কি না, এখন তা প্রমাণ করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল চ্যালেঞ্জ।

Previous
Previous

নামের নকশা বদলেছে Mclaren

Next
Next

আবার বিদায় নিচ্ছে Volvo-র সিইও