বাজারে ফিরছে KTM 790 Duke
অস্ট্রিয়ান মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান KTM তাদের জনপ্রিয় ‘790 Duke’ মিডলওয়েট নেকেড বাইকটি আবারও বাজারে ফিরিয়ে আনছে। বড় ইঞ্জিন ক্ষমতার ‘890 Duke’ আসার পর ২০২৩ সালে নীরবে এই মডেলটির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবে ২০২৭ মডেল বছর থেকে এটি আবারও কোম্পানির লাইনআপে যুক্ত হচ্ছে।
KTM-এর ছোট এবং বড় মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে দাম ও পারফরম্যান্সের যে বিশাল ব্যবধান ছিল, তা পূরণ করতেই 790 Duke-এর প্রত্যাবর্তন। নতুন সংস্করণে বাইকটির সামনের অংশে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে যুক্ত হয়েছে নতুন হেডলাইট, নতুন বডিওয়ার্ক, বড় ফ্রন্ট ফেয়ারিং এবং ফুয়েল ট্যাঙ্কের নতুন নকশা, যা বাইকটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বাইকটির হৃদপিণ্ড হিসেবে থাকছে সেই পুরোনো ৭৯৯ সিসি (799cc) LC8c প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন, যা ৯,৫০০ আরপিএম-এ ১০৫ হর্সপাওয়ার এবং ৮,০০০ আরপিএম-এ ৬৪ পাউন্ড-ফিট টর্ক উৎপন্ন করে। এর চ্যাসিস বা কাঠামোতে আনা হয়েছে বড় ধরনের উন্নতি। নতুন এতে যুক্ত হয়েছে WP ব্রেকিং সিস্টেম, যার সামনে থাকছে দুটি ৩০০ মিমি ফ্লোটিং ডিস্ক এবং ফোর-পিস্টন রেডিয়াল ক্যালিপার। এছাড়া সাসপেনশনের ক্ষেত্রে WP APEX-এর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সামনের দিকে থাকছে ৪৩ মিমি ওপেন-কার্তুজ আপসাইড-ডাউন ফর্ক এবং পেছনে গ্যাস-অ্যাসিস্টেড WP APEX মনোটিউব শক। বাইকটিতে আরও থাকছে নতুন Pirelli Diablo Rosso IV টায়ার।
চালকের আরাম ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে বাইকটির এরগোনোমিক্সেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। হ্যান্ডেলবারের আকৃতি পরিবর্তনের পাশাপাশি চালক ও যাত্রীর ফুটপেগের অবস্থান নতুন করে সাজানো হয়েছে এবং সিটের নকশা পুনর্নিমাণ করা হয়েছে। নতুন কাস্ট-অ্যালুমিনিয়াম সাবফ্রেম, ট্রিপল ক্ল্যাম্প এবং হালকা ফুয়েল ট্যাঙ্কের কারণে বাইকটির ওজনও আগের মডেলের তুলনায় ৪.৪ পাউন্ড কমে এসেছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে বাইকটিতে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকছে লিন-সেনসিটিভ ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, সিলেক্টেবল সুপারমোটো এবিএস (ABS) এবং ৫ ইঞ্চির টিএফটি (TFT) ডিসপ্লে। রাইডারদের সুবিধার জন্য এতে স্পোর্ট, স্ট্রিট, রেইন এবং ট্র্যাক—এই চারটি আলাদা রাইডিং মোড যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে চালকরা ক্লাচ ছাড়া গিয়ার পরিবর্তনের জন্য ঐচ্ছিক ‘কুইকশিফটার+’ (Quickshifter+) প্রযুক্তিও নিতে পারবেন।
২০২৭ সালের এই নতুন KTM 790 Duke-এর প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯,৭৯৯ মার্কিন ডলার। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ বাইকটি অনুমোদিত ডিলারশিপগুলোতে পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের বাইকাররা যখন বহুল প্রতীক্ষিত ৩৫০ সিসির মোটরবাইকের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, তখন এক অভিনব কাণ্ড ঘটিয়েছে জাপানি ব্র্যান্ড Kawasaki।