Kawasaki Ninja 650-এর নিয়ত্রণে বড় আপগ্রেড

ছবিঃ Kawasaki

বাংলাদেশে Kawasaki Ninja 650-এর জন্য অপেক্ষার পালা এখনও শেষ হয়নি। তবে বিদেশের বাজারে নিজেদের মিডলওয়েট মোটরসাইকেলটিকে আরও উন্নত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে Kawasaki।

২০২৭ সালের জন্য ইউরোপের বাজারে আসা মডেলটিতে সামনের সাসপেনশন ও ব্রেকিং সিস্টেমে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে আগ্রাসী লুকের এই দৈনন্দিন ব্যবহারের স্পোর্টবাইকটি এবার পেতে যাচ্ছে তার চেহারার সঙ্গে মানানসই আরও উন্নত হার্ডওয়্যার।

Kawasaki-র লাইনআপে Ninja 650 দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। এটি স্পোর্টবাইকের আকর্ষণীয় নকশায় তৈরি হলেও ডেডিকেটেড সুপারস্পোর্ট বাইকের মতো কঠিন রাইডিং দক্ষতা, আরামের সঙ্গে আপস কিংবা অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতির দাবি করে না। ২০২৭ মডেলেও এর 649cc parallel-twin ইঞ্জিন এবং স্টিল ট্রেলিস ফ্রেম অপরিবর্তিত থাকছে। অর্থাৎ, সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য পারফরম্যান্স এবং প্রতিদিনের রাস্তায় ব্যবহারের উপযোগিতাই থাকছে এর মূল লক্ষ্য।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সামনের দিকে। প্রচলিত টেলিস্কোপিক ফর্কের পরিবর্তে Kawasaki এবার ব্যবহার করেছে 37mm Showa Separate Function Big Piston (SFF-BP) ইনভার্টেড ফর্ক। Kawasaki-র দাবি, এই নকশা ফর্কের ভেতরে ড্যাম্পিং প্রেসার কমায় এবং সামনের চাকার নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত করে। নতুন ফ্রন্ট সাসপেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পেছনের শকের স্প্রিং রেটেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন ফর্কের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সামনের ফেন্ডারটি আরও চওড়া করা হয়েছে এবং এর নকশাতেও বদল আনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রেকিং সিস্টেমেও এসেছে পরিবর্তন। আগের দুই-পিস্টন, অ্যাক্সিয়ালি মাউন্টেড ফ্রন্ট ক্যালিপারের বদলে এবার থাকছে চার-পিস্টন রেডিয়ালি মাউন্টেড ক্যালিপার। এর ফলে ফলে ক্যালিপারের দৃঢ়তা বেড়েছে। এই নতুন ফর্ক ও বড় ক্যালিপারের সমন্বয়ে Ninja 650-এর সামনের অংশ দেখতে এখন আরও জোরালো ও পেশিবহুল, যা রাইডারকে রাস্তায় দেবে তুলনামূলক অধিক আত্মবিশ্বাস।

রাইডারের সামনের ককপিটেও নজর দিয়েছে Kawasaki। আগের 4.3-inch TFT ইন্সট্রুমেন্ট ডিসপ্লেতে যুক্ত হয়েছে নতুন ইন্টারফেস। অন্যদিকে, Kawasaki-র Rideology স্মার্টফোন অ্যাপে যোগ হয়েছে ভয়েস কমান্ড ও নেভিগেশন সুবিধা। Kawasaki Traction Control (KTRC) আগের মতোই স্ট্যান্ডার্ড ফিচার হিসেবে থাকছে। ইউরোপের মডেলগুলোতে সিটের উচ্চতাও থাকছে অপরিবর্তিত, 30.9 inches।

ইউরোপের বাজারে নতুন মডেলটির দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। একইভাবে, এই আপগ্রেডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও আসবে কি না, তা Kawasaki আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। আপাতত Ninja 650-এর আপগ্রেডের খবর শুধু তাদের জন্যই, যেসব বাজারে বাইকটি ইতোমধ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশে আমরা এখনও Kawasaki-র 125cc বাইক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হচ্ছি। কোম্পানিটি তাদের প্রতিশ্রুত কারখানা নির্মাণের কাজ এখনও শেষ করতে পারেনি। তার ওপর ইঞ্জিনের সিসি-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি তো রয়েছেই। বিদেশ থেকে বড় ইঞ্জিনের Kawasaki আমদানি করতে গেলে খরচ পড়তে পারে ভালো ফিচারসমৃদ্ধ একটি গাড়ির কাছাকাছি। ফলে এমন বাইক কেনার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করা বেশ কঠিন।

তারপরও, আশা রাখতে দোষ কী!

Next
Next

৩১০ হর্সপাওয়ারের জেট স্কি আনল Kawasaki