ছবিঃ ইমরান আবিদ
Bangladesh Reconditioned Vehicles Importers and Dealers Association ঢাকার International Convention City Bashundhara (ICCB)-তে ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী একটি কার এক্সপোর আয়োজন করেছে। Wizard Showbiz-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে এক ডজনের বেশি ডিলার। প্রদর্শনীতে ছিল প্রায় ১০০টি গাড়ি। উদ্দেশ্য, বিক্রেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য ক্রেতাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং জাপানি reconditioned গাড়ির প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনা।
অর্থাৎ, কিছুটা ব্যবসা, কিছুটা পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ আর প্রচুর Toyota।
পরিচিত গাড়িগুলোর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন প্রজন্মের Toyota Corolla-র পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছিল সবার পরিচিত কয়েক ডজন Corolla Cross, Harrier, Noah, Voxy এবং Alphard।
প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৬৫ টাকা এবং সামনে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কায় হাইব্রিড প্রযুক্তিই ছিল মূল আকর্ষণ। পুরো প্রদর্শনীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বিভিন্ন প্রজন্মের বিভিন্ন রূপের Prius আর অসংখ্য Toyota-র নীল ব্যাজের গাড়ি। আর Toyota-র হাইব্রিড প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে ছিল কিছু সংখ্যক Honda Insight এবং Mitsubishi Outlander PHEV।
অন্যদিকে Toyota Raize Hybrid একই প্রযুক্তিকে আরও ছোট আকারে তুলে ধরেছে। আর যারা আরেকটি crossover-এর বদলে ব্যবহারিক একটি MPV খুঁজছিলেন এমন ক্রেতাদের কথা ভেবে ছিল একটি Honda Freed।
প্রচলিত গাড়িগুলোর ভিড়ে আলাদা নজর কেড়েছিল একটি রাজকীয় লাল Toyota Crown।
পাশাপাশি জাপানের kei-car জগতের পরিচয়ও তুলে ধরেছিল একটি Toyota Pixis এবং Suzuki Hustler Hybrid। ছোট, বুদ্ধিদীপ্ত এবং প্রাণবন্ত এই দুটি গাড়ি ঢাকার জন্য চমৎকারভাবে মানানসই।
প্রদর্শনীতে আরো ছিল কয়েকটি বৈদ্যুতিক গাড়ি। সরকারের সম্প্রতি reconditioned EV আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই এগুলো বাংলাদেশে চলে এসেছে। একটি সাদা Nissan Ariya এবং বেশ কয়েকটি Toyota bZ4X।
বলা বাহুল্য, reconditioned গাড়ি আমদানির বাজারে এমন গাড়ি খুব দুর্লভ। উদীয়মান একটি বাজারে নিয়মকানুন কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, গাড়িগুলোর উপস্থিতি ছিল তারই একটি অনুস্মারক।
একঘেয়েমি কাটাতে উপস্থিত ছিল বেশ কিছু ক্লাসিক গাড়ি। বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর অংশ ছিল এই আয়োজন। এতে জাপানি গাড়ির পথচলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে— যেখানে স্থান পেয়েছে জাপানের নির্ভরযোগ্যতার সুনাম গড়ে তোলা পুরোনো প্রজন্মের গাড়ি থেকে শুরু করে আজকের দিনের হাইব্রিড ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক মডেল। সম্ভবত এক্সপোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল এটিই। কারণ বাংলাদেশ ও জাপানের গাড়ির সম্পর্ক যে Prius বা Harrier-এর চেয়েও অনেক প্রাচীন, তা মনে করিয়ে দিয়েছে এই প্রদর্শনী।
তবে প্রদর্শনীটি শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িতেই সীমিত ছিল না। এখানে প্রদর্শিত হয়েছে ছোট ট্রাক থেকে শুরু করে freezer van পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক গাড়ি। জনপ্রিয় গাড়ি ইনফ্লুয়েন্সার HuQ Riaz-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। Toyota Bangladesh-এরও ছিল নিজস্ব স্টল। তবে নতুন কোনো Toyota মডেল দেখার আশা নিয়ে কেউ অনুষ্ঠানে গেলে তাকে হতাশ হতে হতো। কোম্পানিটি মূলত এখানে আসল Toyota যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করেছে।
আরো স্টল ছিল বিভিন্ন ব্যাংকের, যেখানে দেওয়া হচ্ছিল সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য আর্থিক সেবা। এটি ছিল বেশ ব্যবহারিক একটি সংযোজন। কারণ অনেক দর্শনার্থীর জন্য পরবর্তী গাড়িটি বেছে নেওয়ার চেয়েও সেটি কেনার টাকা জোগাড় করা আরও বড় বাধা।
আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ডিং ও সাজানো প্রদর্শনী থাকা সত্ত্বেও আয়োজনটি প্রচলিত মোটর শোর চেয়ে বিশাল এক গাড়ির হাট বলেই বেশি মনে হয়েছে। ডিলাররা নিজেদের গাড়ির মজুত এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন, ক্রেতারা একই স্থানে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি তুলনা করার সুযোগ পেয়েছেন, আর হলজুড়ে ছিল বাংলাদেশের পুরোনো গাড়ির বাজারের পরিচিত মুখগুলো। আয়োজনটি খুব একটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। তবে reconditioned গাড়ির ব্যবসার জন্য কখনোই অতটা জাঁকজমকের প্রয়োজন হয়নি।
এক্সপোর সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে জাপানি reconditioned গাড়ির আধিপত্য ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা, গাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সীমাবদ্ধ বাজেটে আগে ক্রেতাদের সামনে পছন্দের যে বিপুল সুযোগ ছিল, এখন তা চড়া দামের বাজারে ঢাকা পড়েছে। ফলস্বরূপ, ডিলারদের জন্যও এখন ক্রেতাদের আশ্বস্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে— ব্যবহৃত জাপানি গাড়ির পেছনে এই বাড়তি বিনিয়োগ এখনো পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত।
প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু অন্য জাপানি আমদানিকৃত গাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একের পর এক নতুন চীনা গাড়ি বাজারে এসেছে। সেগুলোতে রয়েছে আধুনিক infotainment system, প্রচুর ফিচার, প্রতিযোগিতামূলক মাইলেজ এবং জ্বালানি সাশ্রয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব গাড়ির দাম reconditioned জাপানি বিকল্পগুলোর সমান, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমও। পাশাপাশি এগুলো এমন একটি সুবিধা দেয়, যা reconditioned গাড়ির ব্যবসা দিতে পারে না: একেবারে নতুন গাড়ি, অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি এবং নির্ভরযোগ্য কাস্টমার সার্ভিস।
BARVIDA-র সামনে এখন এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানি reconditioned গাড়ি ব্যবসার পেছনে আছে কয়েক দশকের পরিচিতি ও আস্থা। কিন্তু একই দামে প্রতিযোগীরা যখন আরও নতুন প্রযুক্তি দিচ্ছে, তখন শুধু সুনাম দিয়ে ক্রেতাদের ধরে রাখা দুষ্কর। এক্সপোর উদ্দেশ্য ছিল গাড়িগুলোকে আবার ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা এবং জাপানি আমদানিকৃত গাড়ি কেন এত জনপ্রিয় হয়েছিল, তা মনে করিয়ে দেওয়া। এই আয়োজন বাজারের গতিপথ বদলাতে পারবে কি না, তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে।
Bangladesh Reconditioned Vehicles Importers and Dealers Association ঢাকার International Convention City Bashundhara (ICCB)-তে ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী একটি কার এক্সপোর আয়োজন করেছে। Wizard Showbiz-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে এক ডজনের বেশি ডিলার। প্রদর্শনীতে ছিল প্রায় ১০০টি গাড়ি। উদ্দেশ্য, বিক্রেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য ক্রেতাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং জাপানি reconditioned গাড়ির প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনা।