Glanza মিটে জমল গাড়ির আসর

ছবিঃ ইমরান আবিদ

গাড়ির মিট জমাতে সব সময় সুপারকার, নিখুঁত ক্লাসিক, বা কোটি টাকার SUV-র প্রয়োজন হয় না। কখনও কয়েকজন গাড়িপাগল, কিছু পুরোনো জাপানি গাড়ি আর ভোরবেলায় বেরিয়ে পড়ার আকাঙ্ক্ষাই যথেষ্ট। এমন ভাবনা থেকেই গত শুক্রবার হঠাৎ আয়োজন করা হয়েছিল একটি Toyota Glanza মিটের। পরে সেটিই রূপান্তরিত হয় একটি বাহারি গাড়ির ছোটখাটো জমায়েতে, যেখানে জাপানি গাড়িগুলোর সাথে যোগ দেয় কয়েকটি অপ্রত্যাশিত মডেল।

শুরুতে শুধু Glanza মালিকেরাই এই মিটের আয়োজন করেন। লক্ষ্য ছিল সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বসুন্ধরার Cafe Amazon-এর সামনে জড় হওয়া। পরিকল্পনা ছিল বেশ সহজ: গাড়িগুলো এক জায়গায় আনা, অন্য গাড়িপ্রেমীদের সঙ্গে দেখা করা এবং পুরোনো জাপানি গাড়ি নিয়ে গল্প করে আনন্দের সাথে সকালটা কাটানো।

স্বাভাবিকভাবেই Glanza- গুলোই ছিল জমায়েতের মূল আকর্ষণ। তিনটি Glanza-র পাশাপাশি এসেছিল একটি Toyota KP60, নব্বইয়ের দশকের তিনটি EE90:এবং একটি KE70 Corolla wagon। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও প্রতিটি গাড়ির ছিল নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। একজন প্রবীণ মানুষের মতোই এই ধীরগতির, বাস্তবসম্মত গাড়িগুলোর আছে নিজেদের বিশদ গল্পের থলি। পুরোনো দিনের একটি জাপানি গাড়িকে ভালোবাসার কারণ বোঝাতে জটিল বিক্রয়কৌশলের প্রয়োজন পড়ে না—এতেই রয়েছে এর আলাদা আকর্ষণ।

তবে জমায়েতটি বেশিক্ষণ শুধু Toyota-র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে একটি Proton, দুটি Honda Vezel এবং একটি Subaru এসে আয়োজনটিতে যোগ দেয়। Toyota-র নতুন মডেলগুলোর মধ্যে থেকে হাজির হয় Corolla Sport hatchback ও sedan। পরিশেষে যোগ দেয় একটি বিচিত্র চেহারার Carig ওয়াগন।

বাংলাদেশের গাড়িপ্রেমীদের জগতের বাস্তব রূপটাই যেন উঠে এসেছে এই আয়োজনে। এখানে গাড়ির কদর কেবল তার দাম দিয়ে মাপা হয় না; বরং তার ইতিহাস, রক্ষণাবেক্ষণ আর ওটাকে রাস্তায় সচল রাখতে মালিকের ভালোবাসার সংগ্রামের গল্পটাই বড় হয়ে ওঠে। ছোট Glanza থেকে শুরু করে ক্ল‍্যাসিক Corolla—জাপানি গাড়ির নানা প্রজন্ম আর ধাঁচের গাড়ি এক জায়গায় হাজির হয়েছিল, গাড়িপ্রেমীদের অন্তহীন গল্প আর আলোচনা জমিয়ে তোলার মতো বৈচিত্র্যের কোনো কমতি ছিল না সেখানে।

অবশ্য গাড়িগুলো একত্র করা যতটা সহজ ছিল, সেগুলোর জন্য পার্কিংয়ের জায়গা খুঁজে পাওয়া ঠিক ততটাই কঠিন প্রমাণ হয়। বসুন্ধরার নিরাপত্তাকর্মীরা মূল জমায়েতের জায়গাটি বন্ধ করে দিলে বহরটিকে অন্যত্র যেতে হয়। এরপর কয়েকটি বিকল্প জায়গা ঘুরে দেখার পর দলটি শেষ পর্যন্ত একটি নিরিবিলি স্থান খুঁজে পায়। সেখানে গাড়িগুলো একসঙ্গে পার্ক করে পুনরায় পুরোদমে চালু হয়ে যায় আড্ডা।

সবাই পৌঁছানোর পর আয়োজনটি রাখা হয় ইচ্ছাকৃতভাবেই সাধারণ। বড় কোনো কার্যক্রম বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনী করে এই জমায়েতকে পূর্ণাঙ্গ গাড়ির উৎসবে পরিণত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা Glanza মালিকদের ছিল না। এক কথায় সকালটি ছিল সাদামাটা এক মিলনমেলা, যেখানে গাড়ি এবং সেগুলোর মালিকেরাই ছিল মূল উপলক্ষ।

এই সরলতার মধ্যেই ছিল আয়োজনটির সৌন্দর্য। গাড়ির সংস্কৃতি কখনও কখনও সংখ্যার হিসাব, এক্সক্লুসিভিটি আর চোখধাঁধানো প্রদর্শনী নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যেন প্রতিটি জমায়েতে এমন কিছু থাকতে হবে, যা কোটি টাকার GTR-কে লজ্জায় ফেলে দেবে। কিন্তু সাধারণ গাড়িপ্রেমীদের গাড়ি নিয়ে আয়োজিত মিটেরও নিজস্ব আকর্ষণ রয়েছে। মালিকেরা নিজেদের গাড়ির তুলনা করতে পারেন, ধারণা বিনিময় করতে পারেন, modification নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং এমন গাড়িগুলোকে উপভোগ করতে পারেন, যেগুলো অন্য সময় ঢাকার যানজটে কারও নজর না কাড়তেই হারিয়ে যায়।

Glanza ছিল আয়োজনের মূল বিষয়, কিন্তু অন্য গাড়িগুলো জমায়েতটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছিল। KP60 এবং KE70 wagon Toyota-র পুরোনো প্রজন্মের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে Honda Vezel, Subaru, Proton এবং Corolla Sport নিয়ে এসেছিল ভিন্ন স্বাদ। পরে Craig-টি এসে যোগ দেওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়: এই মিটের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের প্রতি আনুগত্য দেখানো নয়, বরং গাড়িপ্রেমীদের এক জায়গায় নিয়ে আসা।

কখনও কখনও একটি সফল গাড়ির মিট বলতে এতটুকুই বোঝায়—সবাই সময়মতো পৌঁছাল, গাড়ি পার্ক করল, এরপর নিরাপত্তাকর্মীদের তাড়ায় আবার নতুন জায়গা খুঁজে নিয়ে সকালটা উপভোগ করতে পারল।

ইমরান আবিদ

তরুণ এক গাড়িপ্রেমী—যার আছে একটি বাইক, এক সেট ক্যামেরা এবং নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি চরম উদাসীনতা। আরও আছে উচ্চ গতিতে বাইক চালানোর সময় ফোন হারিয়ে ফেলার অভ্যাস।

Next
Next

কুয়াশা, আভিজাত্য, ভেসপাঃ ২০২৫ BVC-র Gentleman’s Ride