পাঁচ কিংবদন্তি F1 গাড়ি বিক্রি করছে McLaren

ছবিঃ Tom Hartley Jnr

McLaren নিজেদের সংগ্রহে থাকা পাঁচটি Formula 1 গাড়ি বিক্রি করছে। গাড়িগুলো প্রতিষ্ঠানটির ৩২ বছরের রেসিং ইতিহাসের সাক্ষী। বিক্রির কারণ, গাড়িগুলোকে স্টোরেজে ধুলো জমতে দেওয়ার বদলে আবার ট্র্যাকে ফেরানো।

McLaren Racing গাড়িগুলোর ক্রেতা খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিয়েছে Oxfordshire-ভিত্তিক গাড়ি ব্যবসায়ী Tom Hartley Jnr-কে। দলটির দাবি, এত সাম্প্রতিক সময়ের Formula 1 গাড়ি সরাসরি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রি করার ঘটনা নজিরবিহীন। সাধারণত এমন গাড়ি উন্মুক্ত বাজারে আসতে কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হয়।

McLaren Racing-এর CEO Zak Brown বলেন, “আমরা এই আইকনিক McLaren Formula One গাড়িগুলো বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ আমাদের মনে হয়েছে, এগুলোকে শুধু স্টোরেজে ফেলে রাখা হলে গাড়িগুলো যা প্রতিনিধিত্ব করে, তার প্রতি অবিচার করা হবে।”

নির্বাচিত বিক্রেতার ব্যাপারে তিনি বলেন, “Ecclestone Grand Prix Collection বিক্রির সময় তিনি যেভাবে পুরো বিষয়টি সামলেছিলেন, তাতেও আমরা মুগ্ধ হয়েছিলাম। McLaren বহু বছর ধরে তাঁর সঙ্গে সফলভাবে কাজ করছে।”

সংগ্রহের সবচেয়ে পুরোনো গাড়ি দুটি হলো ১৯৯১ সালের McLaren MP4/6A মডেলের দুটি চ্যাসিস। চালিয়েছেন Ayrton Senna এবং Gerhard Berger। এর মধ্যে চ্যাসিস #04 গাড়িটি নিয়ে Berger সান মারিনো গ্র্যান্ড প্রিক্সে Senna-এর ঠিক পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সেই রেসে McLaren-এর এই দুই চালক বাকি সব প্রতিযোগীকে এক ল্যাপ পেছনে ফেলে দেন। Formula 1- এর ইতিহাসে একই চ্যাসিস ব্যবহার করে সতীর্থদের এমন আধিপত্য দেখানোর কীর্তি এর আগে মাত্র একবারই দেখা গিয়েছিল। গাড়িটির স্বাভাবিকভাবে বাতাস টেনে নেওয়া (Naturally aspirated) Honda RA121E V12 ইঞ্জিন ওই মৌসুমে McLaren-কে টানা চতুর্থবারের মতো Constructors’ Championship এনে দিতে মূল ভূমিকা রেখেছিল।

অন্যদিকে চ্যাসিস #07 Silverstone-এ অনুষ্ঠিত British Grand Prix-এ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিল। গাড়িটি রেসিং ক্যারিয়ারে কখনো দুর্ঘটনায় পড়েনি। পরের বছর Senna দুটি গাড়িই পরীক্ষা করেছিলেন, যা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ইতিহাসের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।

এরপরের সংগ্রহটি ২০১২ মৌসুমের। তখনকার McLaren MP4/27A-এর চ্যাসিস #01 চালিয়েছিলেন Jenson Button, ওই বছরের শিরোপার লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে। গাড়িটি Indian Grand Prix-তে দ্রুততম ল্যাপের দখল নিয়েছিল। পুরো মৌসুমে McLaren সাতটি পোল পজিশন ও তিনটি রেস জয় করে। Lewis Hamilton গাড়িটি পরীক্ষা করলেও কোনো রেসে ব্যবহার করেনি।

২০২১ সালের McLaren MCL35M-এর চ্যাসিস #01 কেবল Lando Norris-ই চালিয়েছিলেন। গাড়িটি Imola, Monaco ও Monza-তে পডিয়ামে জয় করেছিল। Monaco-তে এতে রাঙ্গানো হয় McLaren-এর বিশেষ Gulf লিভারিতে। Italian Grand Prix-তে গাড়িটি দলের এক-দুই ফিনিশের অংশ ছিল। একই সঙ্গে গাড়িটি ২০১২ সালের পর McLaren-এর প্রথম Grand Prix জয়েও ভূমিকা রাখে।

সংগ্রহের সবচেয়ে নতুন গাড়িটি হলো ২০২৩ সালের McLaren MCL37A-এর চ্যাসিস #03। দলটি একে এই বিক্রির প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। Norris গাড়িটি চালিয়ে Singapore ও Japan-এ টানা দুটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দলের চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের আগে গাড়িটি McLaren-এর উন্নয়ন কর্মসূচিতেও ভূমিকা রাখে।

রেসিং ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর MCL37A-কে McLaren-এর আনুষ্ঠানিক পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়। Oscar Piastri, Pato O'Ward, Mick Schumacher, Valtteri Bottas ও Martin Brundle—সবাই গাড়িটি চালিয়েছেন। অভিনেতা Brad Pitt-ও F1 The Movie-এর প্রস্তুতির সময় Circuit of the Americas-এ গাড়িটি পরীক্ষা করেন। জানা গেছে, তিনি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৯৭ মাইল গতি তুলেছিলেন।

পাঁচটি গাড়ি আলাদাভাবে বিক্রি করা হবে। তবে Hartley জানিয়েছেন, একজন ক্রেতা চাইলে পুরো সংগ্রহটিই কিনে নিতে পারেন। প্রতিটি গাড়ি শেষবার রেস করার পর থেকে McLaren-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। হস্তান্তরের আগে দলটি গাড়িগুলো প্রস্তুত করে দেবে। তবে দাম প্রকাশ করা হয়নি।

ছবিঃ McLaren Racing-এর CEO Zak Brown এবং Tom Hartley Jnr

Hartley মনে করেন, আলাদাভাবে বিক্রির জন্য রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচটি গাড়িই একজনের সংগ্রহে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “অবশ্যই, এখানেও ঠিক একই রকম দৃশ্যপট তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই পাঁচটি গাড়ি আলাদাভাবেই বিক্রি করা হবে এবং এই বিক্রয় প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সময়ের কোনো সুনির্দিষ্ট তাড়া বা চাপ আমাদের একেবারেই নেই।”

এর আগে তাঁর বিক্রি করা দুটি গাড়ির সংগ্রহেও আলাদা আলাদা গাড়ির প্রতি ক্রেতারা আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য একজন ক্রেতাই পুরো সংগ্রহ কিনে নেন। Hartley-র ব্যবসা ২০২৫ সালে ৯০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সংগ্রহযোগ্য গাড়ি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ছিল Bernie Ecclestone-এর ৬৯টি Grand Prix গাড়ির সংগ্রহ, যা reportedly ৫০ কোটি পাউন্ডে (৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) বিক্রি হয়েছিল। এর আগে Hartley রেকর্ড দামে একটি McLaren F1 GTR-ও বিক্রি করেছিলেন।

McLaren বলছে, এই বিক্রির উদ্দেশ্য ঐতিহাসিক রেসিং গাড়িগুলোকে স্টোরেজের বাইরে নতুন জীবন দেওয়া। যুক্তিটা গ্রহণযোগ্য: রেসিং গাড়ি তৈরি করা হয় রেস করার জন্য, কাচের বাক্সের পেছনে পড়ে থাকার জন্য নয়। তবে বলা বাহুল্য এই বিক্রির ফলে প্রতিষ্ঠানটির হাতে আসবে মোটা অংকের টাকা।

McLaren-এর মালিকানা এরই মধ্যে দুবার বদলেছে। বর্তমানে বাহরাইনের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলটির মালিক, আর তাদের অর্থের অভাব আছে—এমনটা বলা কঠিন। তারপরও নতুন SUV-সহ আরও কয়েকটি মডেল তৈরির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে ব্র্যান্ডটির। এসব প্রকল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। হাতে বাড়তি অর্থ থাকলে ক্ষতি কী?

দলের ইতিহাসের অংশ এমন পাঁচটি গাড়ি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত আবেগের বশে নেওয়া হতে পারে কিংবা বাস্তব প্রয়োজন থেকেও আসতে পারে—অথবা দুটিই হতে পারে। যে কারণেই হোক, নতুন মালিকেরা পাবেন আরেকটি বিনিয়োগযোগ্য সুপারকারের চেয়েও আকর্ষণীয় কিছু: পাবেন McLaren-এর রেসিং ইতিহাসের একেবারে খাঁটি অংশ।

Next
Next

এক লাখ Land Cruiser ফিরিয়ে নিচ্ছে Toyota