এক লাখ Land Cruiser ফিরিয়ে নিচ্ছে Toyota

ছবিঃ Toyota

জ্বালানি লিক থেকে আগুন লাগার ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখেরও বেশি Land Cruiser Hybrid SUV ফিরিয়ে নিচ্ছে Toyota।

এই রিকলের আওতায় রয়েছে ২০২৪ থেকে ২০২৬ মডেল বর্ষের মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৭৯৪টি গাড়ি। বর্তমান J250 প্রজন্মের গাড়িগুলো এই সমস্যায় আক্রান্ত। এগুলো তৈরি হয়েছে ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের National Highway Traffic Safety Administration (NHTSA)-এর কাছে 26V673 নম্বরে নথিভুক্ত এই রিকলের পেছনে রয়েছে মাঠপর্যায়ে পাওয়া ২৩টি অভিযোগ এবং ওয়ারেন্টির আওতায় করা ৬৪টি দাবি। Toyota-এর ধারণা, আক্রান্ত গাড়িগুলোর মাত্র এক শতাংশ গাড়িতে এই ত্রুটি রয়েছে।

সমস্যাটি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি রিটেইনিং ক্লিপে। এই ক্লিপটি জ্বালানির ট্যাংক থেকে ইঞ্জিন পর্যন্ত যাওয়া একটি ধাতব পাইপের সঙ্গে রেজিনের তৈরি ফুয়েল টিউবের সংযোগ ধরে রাখে। ক্লিপটি সরে গেলে কিংবা খুলে পড়ে গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে জ্বালানি লিক হতে পারে। হাইব্রিড সিস্টেমের ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার আগেই এমনটি ঘটতে পারে। লিক হওয়া জ্বালানি অতি উত্তপ্ত কিছু বা আগুনের কোনো উৎসের সংস্পর্শে এলে গাড়িটিতে আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

২০২৫ ও ২০২৬ সালে জ্বালানি লিকের বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর Toyota বিষয়টি তদন্ত করে। এরপর গাড়িগুলো রিকল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সমস্যাটা ঠিক করার জন্য Toyota-র ডিলারশিপগুলো বিনা খরচে জ্বালানি পাইপের সংযোগ পরীক্ষা করে সেখানে একটি অতিরিক্ত ক্ল্যাম্প লাগিয়ে দেবে। ক্ল্যাম্প দিয়েও সংযোগ যথেষ্ট শক্তভাবে ধরে রাখা না গেলে টেকনিশিয়ানরা ফুয়েল টিউবটি বদলে দেবেন। গাড়ির ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিকল আইন অনুযায়ী এই মেরামতের খরচ Toyota-কে বহন করতে হবে।

Toyota জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গাড়ির মালিকদের কাছে নোটিশ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। শঙ্কিত মালিকেরা চিঠির জন্য অপেক্ষা না করেও NHTSA-এর রিকল সার্চ টুলে নিজেদের গাড়ির ১৭ অক্ষরের VIN দিয়ে যাচাই করতে পারবেন। রিকলের কোড দুটি হলো 26TB23 এবং 26TA23।

গাড়ির ভেতরে বা বাইরে জ্বালানির গন্ধ পাওয়া গেলে, গাড়ির পেছনের দিকে জ্বালানি পড়তে দেখা গেলে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে জ্বালানি খরচ বেড়ে গেলে মালিকদের সতর্ক থাকতে হবে। পরীক্ষা না করা পর্যন্ত গাড়িটি ভবন থেকে দূরে খোলা জায়গায় পার্ক করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে Toyota-এর এটিই একমাত্র রিকল নয়। RAV4 Plug-in Hybrid এবং Tundra-এর মতো মডেল নিয়েও নিরাপত্তাজনিত রিকল ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Tundra-এর একটি রিকলের কারণ ছিল ইঞ্জিনের ভেতরে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বর্জ্য থেকে যাওয়া। C-HR ও Camry-এর মতো মডেলের অন্য কিছু রিকলের পেছনে ছিল সফটওয়্যারজনিত সমস্যা।

আপাতত এই রিকল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে আমদানি করা Land Cruiser-গুলোও উল্লেখ্য সমস্যাতে আক্রান্ত। তবে সেগুলো নিরাপদ, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

দেশের Land Cruiser মালিকরা যদি নিশ্চিত হতে চায় তবে তারা তাদের গাড়ির VIN যাচাই করে দেখতে পারে অথবা Toyota Bangladesh-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে রিকলসংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি রয়েছে কি না, তা জেনে নিতে পারে।

Previous
Previous

পাঁচ কিংবদন্তি F1 গাড়ি বিক্রি করছে McLaren

Next
Next

আমেরিকায় ঢুকতে চায় চীনের Chery