সুরক্ষায় ১০০ তে ১০০ পেল Audi 

ছবিঃ Euro NCAP

Audi এবং বৃহত্তর Volkswagen Group যখন গুরুতর আর্থিক চাপের মুখে আছে, তখন জার্মান গাড়িশিল্পের জন্য একটি সুখবর নিয়ে এসেছে Audi-র নতুন Q7।

বিশালাকৃতির এই SUV প্রথম উৎপাদিত গাড়ি হিসেবে Euro NCAP-এর Post-Crash Safety বিভাগে পূর্ণ ১০০ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে। পাশাপাশি, সংস্থাটির সামগ্রিক নিরাপত্তা মূল্যায়নেও গাড়িটি পেয়েছে পাঁচ তারকার সর্বোচ্চ রেটিং।

তবে Q7-কে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ গাড়ি ঘোষণা করার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝে নেওয়া দরকার। এখানে পূর্ণ নম্বরটি প্রযোজ্য দুর্ঘটনার পর কী ঘটে, সেই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে; সংঘর্ষের সময় গাড়িটি যাত্রীদের কতটা সুরক্ষা দেয়, সেটির জন্য নয়। Euro NCAP এই দুটি বিষয় আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে, আর Q7 উভয় ক্ষেত্রেই চমৎকার ফল করেছে।

Post-Crash Safety বিভাগে দেখা হয়, দুর্ঘটনার পর একটি গাড়ি কতটা কার্যকরভাবে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাকে সতর্ক করতে পারে, দুর্ঘটনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে পারে এবং উদ্ধারকারীদের গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে। এটি প্রচলিত ক্র্যাশ টেস্টের চেয়ে আলাদা। সাধারণ ক্র্যাশ টেস্টে যাত্রীদের সুরক্ষা, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং চালক-সহায়ক প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।

Q7-এর Audi connect স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগ ব্যবস্থা  গুরুতর সংঘর্ষের পরপরই  জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এটি গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষ ও সংঘর্ষ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যের পাশাপাশি গাড়ি এবং অবস্থানসংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্যও পাঠায়। অর্থাৎ,  কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আগেই উদ্ধারপ্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।

দুর্ঘটনায় গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা যদি সাহায্য চাওয়ার মতো অবস্থায় না থাকেন, তখন এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিটি সেকেন্ডই মূল্যবান হতে পারে। স্বয়ংক্রিয় জরুরি সতর্কবার্তার মাধ্যমে উদ্ধারকারীরা শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে দ্রুত সাড়া দিতে পারেন।

সংঘর্ষের পর গাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুবিধার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে Audi। Euro NCAP মূল্যায়ন করেছে, সংঘর্ষের পর দরজাগুলো আনলক ও খোলা যায় কি না, সিটবেল্টের বাকল কত সহজে খোলা যায় এবং গাড়ির কম ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বিকল হলেও ইলেকট্রনিক সিস্টেমগুলো সচল থাকে কি না।

অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও প্যারামেডিকদের জন্য গাড়িটির নির্দিষ্ট মডেলভিত্তিক উদ্ধারসংক্রান্ত তথ্যও সরবরাহ করে Audi। এসব নথিতে ব্যাটারি, জ্বালানির পাইপলাইন এবং কাঠামোগত শক্তিবর্ধক অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের অবস্থান দেখানো থাকে। এতে উদ্ধারকারীরা বুঝতে পারেন, বাড়তি ঝুঁকি তৈরি না করে গাড়ির কোন জায়গায় কেটে প্রবেশ করা নিরাপদ হবে।

দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া ঠেকানোর জন্য Q7-এ রয়েছে আরেকটি কার্যকর ব্যবস্থা। এর মাল্টিকলিশন ব্রেকিং সিস্টেম সংঘর্ষ শনাক্ত করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়িটিকে থামিয়ে দেয়, পার্কিং ব্রেক সক্রিয় করে এবং হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে দেয়। চালক অচেতন হয়ে পড়লে এই ব্যবস্থা দ্বিতীয় আরেকটি সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন হলে চালক এই স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে পারেন।

Q7-এর আকার বিবেচনায় এসব ব্যবস্থা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তিন সারির এই বিশাল SUV-টিতে সর্বোচ্চ সাতজন বসতে পারেন। ফলে এটি একটি পারিবারিক গাড়ি। বড় SUV-তে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাথমিক সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সবাইকে দ্রুত ও নিরাপদে বাইরে বের করে আনাও সমানভাবে অপরিহার্য।

আসলে দুর্ঘটনার মুহূর্তের সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনার পরের নিরাপত্তার মধ্যে যে বড় ফারাক আছে, তা বোঝা জরুরি। Euro NCAP-এর পাঁচ তারকা রেটিং প্রমাণ করে যে গাড়িটি সাধারণ সব নিরাপত্তা পরীক্ষায় কতটা সফল। কিন্তু নতুন এই শতভাগ স্কোরটি সম্পূর্ণ ভিন্ন; এটি মূলত Post-Crash Safety বা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আরোহীদের দ্রুত উদ্ধারের ক্ষেত্রে Q7-এর অসাধারণ সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

Q7 এর মূল্যসীমায় এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে অন্যান্য বড়, তিন সারির SUV। তবে সেগুলোর কিছু Euro NCAP-এর Post-Crash Safety প্রোটোকল অনুযায়ী মূল্যায়িত হয়নি। ফলে তাদেরকে সরাসরি তুলনা করা কঠিন। তবে প্রতিযোগিতায় ঠাসা বাজারে Audi-কে আলাদা করে তুলে ধরার জন্য এই শতভাগ রেটিং খুব সুবিধা দেবে। 

বৈশ্বিক বাজারের তীব্র চাপ, ক্রমবর্ধমান ব্যয়, চরম প্রতিযোগিতা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির রূপান্তরের সংকটে থাকা Audi-এর জন্য এই স্বীকৃতি ছিল দারুণ এক স্বস্তি। এই পূর্ণ নম্বর হয়তো Volkswagen Group-এর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেবে না, কিংবা জার্মান নির্মাতাদের বড় সংকটগুলো দূর করবে না। তবে এটি প্রমাণ করে—গাড়িতে কেবল বড় টাচস্ক্রিন লাগানোর চেয়েও অনেক বেশি সংবেদনশীল একটি বিষয়ে Audi আজও অর্থবহ প্রকৌশলগত উৎকর্ষ বজায় রাখতে পেরেছে।

Previous
Previous

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি গাড়ির বিক্রিতে ধস

Next
Next

Alpine A310 Visionঃ আশির দশকের জয়