স্ক্রিনের বাড়াবাড়ি থামাতে চায় চীন

ছবিঃ Avatr

লুকানো দরজার হাতলের ওপর বিধিনিষেধ আনার পর এবার গাড়ির ড্যাশবোর্ডের বড় স্ক্রিন ও টাচ কন্ট্রোলের দিকে নজর দিচ্ছে চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

চীনের Ministry of Industry and Information Technology (MIIT) গাড়ির ভেতরে বড় স্ক্রিন ও চালকের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন অন্যান্য ফিচারের ওপর আরও কঠোর নিয়ম আরোপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন, অন্যান্য ডিসপ্লে এবং হেড-আপ ডিসপ্লের জন্যও নতুন পরীক্ষার নিয়ম চালু করতে পারে। এসব পরীক্ষায় চালকের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার সময় নিরাপত্তা এবং চরম পরিবেশে নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা হবে। যেসব ডিসপ্লে চালকের মনোযোগে অতিরিক্ত ব্যাঘাত ঘটায় বলে বিবেচিত হবে, সেগুলো নিষিদ্ধ হতে পারে।

এছাড়াও, সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, নমনীয় ও ভাঁজ করা যায় এমন ডিসপ্লে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে চীনে উৎপাদিত কোনো গাড়িতে ভাঁজ করা স্ক্রিন ব্যবহার করে না। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান BOE চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি পরীক্ষামূলক বাঁকানো ডিসপ্লে প্রদর্শন করেছিল।

তবে প্রস্তাবিত নিয়ম শুধু স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ নয়। চলন্ত গাড়িতে ‘zero gravity’ আসন ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে চীন। এসব আসনে শরীর অনেকটা হেলিয়ে বসা যায় এবং সাধারণত পায়ের জন্য বড় পাদানি থাকে। গাড়ি চালানোর সময় চালক এসব আসন ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে যাত্রীরা পারেন। MIIT-এর বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়ে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা-ঝুঁকির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত গাড়িতে যাত্রীদের প্রায় শোয়া অবস্থায় থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রকদের নজর কেড়ে থাকতে পারে।

ছবিঃ Volkswagen China

নিজের পছন্দমতো পরিবর্তন করা যায় এমন LED ডে-টাইম রানিং লাইটও পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি হেডলাইট চালু করা, দরজা খোলা এবং বনেট খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ভয়েস কমান্ড নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে উৎপাদিত গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে বাজারে থাকা মডেলগুলোকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে নিয়ম মেনে নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে। CNEVPost-এর তথ্য অনুযায়ী, নিয়ম মানতে ব্যর্থ গাড়িগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হবে অথবা সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।

এই উদ্যোগ গাড়ি নির্মাতাদের বহু বছর ধরে প্রচার করা একটি ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে—স্ক্রিন যত বেশি, গাড়ির আভিজাত্যও তত বেশি। উদাহরণ হিসেবে Mercedes-Benz-এর কথা বলা যায়। ভবিষ্যতের গাড়ির কেবিন হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক স্ক্রিনযুক্ত নকশাকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু অনেক অভিজ্ঞ চালকের মতে, শুধু হাতের স্পর্শে খুঁজে পাওয়া যায় এমন একটি ফিজিক্যাল নব কয়েকটি মেনু ঘেঁটে কিছু খুঁজে বের করার চেয়ে অনেক নিরাপদ।

স্ক্রিনের এই আধিপত্যের পেছনে আরও কম চমকপ্রদ একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। Ferrari জানিয়েছে, গাড়ি নির্মাতারা ফিজিক্যাল কন্ট্রোলের বদলে স্ক্রিন ব্যবহার করার একটি মূল কারণ হলো—স্ক্রিনের খরচ কম।

ছবিঃ Volkswagen China

কিছু কিছু নির্মাতা অবশ্য আবার ফিজিক্যাল কন্ট্রোলে ফিরছে। টাচ কন্ট্রোল নিয়ে সমালোচনার মুখে Volkswagen তাদের গাড়ির কেবিনে বোতাম ও সুইচ ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে। অন্যদিকে Mercedes-Benz ও BMW-এর মতো প্রতিষ্ঠান, যারা স্ক্রিননির্ভর কেবিন তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, তাদের জন্য চীনের প্রস্তাবিত নিয়ম বড়সড় আর্থিক মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

Previous
Previous

AI দিয়ে দ্রুত গাড়ি বানাচ্ছে General Motors

Next
Next

নিলামে উঠছে LeBron James-এর Mercedes Maybach