নতুন রোটারি ইঞ্জিনের পরিকল্পনায় Mazda

ছবিঃ Mazda

অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং করপোরেট বোর্ডের হিসাব-নিকাশের তোয়াক্কা না করে নিজেদের রোটারি ইঞ্জিনের আবেশ জিইয়ে রাখছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা Mazda।

তবে শুধু ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সাধারন জেনারেটর হিসেবে নয়, Hiroshima-র এই প্রতিষ্ঠানটি এবার সরাসরি গাড়ির চাকা ঘোরানোর উপযোগী করে পরবর্তী প্রজন্মের Wankel রোটারি ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনা করছে।

বর্তমানে ব্র্যান্ডটির একমাত্র রোটারি চালিত মডেল MX-30 R-EV-তে একটি সিঙ্গেল-রোটর ইঞ্জিন কেবল ব্যাটারি রিচার্জের জেনারেটর হিসেবে কাজ করে, চাকায় শক্তি যোগানোর দায়িত্ব থাকে বৈদ্যুতিক মোটরের ওপর। নতুন এই উদ্যোগে সেই নীতি থেকে পুরোপুরি সরে আসছে তারা।

১৯৬৫ সালের Cosmo থেকে শুরু করে ২০১২ সালে RX-8 বন্ধ হওয়া পর্যন্ত রোটারিকে মহিমান্বিত করা Mazda-ই বিশ্বের একমাত্র নির্মাতা, যারা এখনো এই ত্রিভুজাকার পিস্টনকে আধুনিক যুগে টেনে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম Car Magazine-এর সাথে আলাপকালে Mazda Motor Europe-এর প্রোডাক্ট প্ল্যানিং ম্যানেজার Moritz Oswald এই প্রযুক্তির জনপ্রিয়তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানুষ রোটারি ইঞ্জিন ভালোবাসার মূল কারণ হলো এর দ্রুত গতি তোলার ক্ষমতা, এর গর্জন (revving) এবং এর নিখুঁত যান্ত্রিক কম্পন।” ইঞ্জিনটিকে স্রেফ কাগজ-কলমের হিসাব না বলে একটি বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক ক্রসওভারের বাজারে খাঁটি গাড়িপ্রেমীরা মূলত এই যান্ত্রিক রোমাঞ্চটাই মিস করেন। আধুনিক বোরিং ক্রসওভারের যুগে খাঁটি গাড়িপ্রেমীরা যে যান্ত্রিক রোমাঞ্চ মিস করেন, মূলত সেটির কথাই উল্লেখ করেন তিনি।

হাইব্রিড পারফরম্যান্স গাড়িতে এই ইঞ্জিন কীভাবে যুক্ত হতে পারে তা ব্যাখ্যা করে Oswald জানান, গাড়িটি ব্যাটারি দিয়ে EV মোডে চালু হয়ে পরবর্তীতে রোটারি ইঞ্জিনের গর্জন তুলবে। এছাড়া কোনো ধরনের ড্রাইভিং অনুভূতি ছাড়া CVT গিয়ারবক্স ব্যবহার করার সম্ভাবনাকে সরাসরি বাতিল করে দিয়ে তিনি বলেন, “আসল বিষয়টি হলো, Mazda-তে প্রচুর গাড়িপ্রেমী মানুষ আছেন এবং ঠিক এই কারণেই আমি এখানে কাজ করতে খুব পছন্দ করি।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকৃতপক্ষে Mazda-র নিজস্ব কর্মীদের অভ্যন্তরীণ চাওয়ারই প্রতিধ্বনি।

তবে এই ভালোবাসাকে চরম বাস্তবতার সাথে লড়াই করতে হচ্ছে। ২০২৩ সালে রোটারি ইঞ্জিনের জন্য বিশেষ Exhaust Gas Recirculation (EGR) ব্যবস্থার পেটেন্ট আবেদন করেছে Mazda। পুরনো রোটারি ইঞ্জিনগুলোতে অতিরিক্ত উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে কম্বাশন চেম্বারে মাত্রাতিরিক্ত জ্বালানি ঢালতে হতো, যা মাইলেজ ধ্বংসের পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশ দূষণ করত। নতুন পেটেন্টের মাধ্যমে কড়া নির্গমন বিধিমালার সাথে তাল মিলিয়ে উচ্চ ক্ষমতার ইঞ্জিনের চরিত্র বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। যদিও বাস্তবে এই ইঞ্জিন কবে নাগাদ বা কোন গাড়ির মাধ্যমে বাজারে আসবে, তা নিশ্চিত করেননি Oswald।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গাড়িপ্রেমী মানুষকে একের পর এক উচ্চভিলাসী ডিজাইন কনসেপ্ট আর পেটেন্ট দেখিয়ে আশা দিয়ে আসছে Mazda। তবে Hiroshima-র সৃজনশীল প্রকৌশলীদের বিবেচনায় পেট্রোল পুড়িয়ে চলা এই যান্ত্রিক ত্রিভুজের চেয়ে বড় কোনো নিখাদ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা আর হতে পারেনা।

Previous
Previous

Hall of Fame-এ অন্তর্ভুক্ত Akio Toyoda

Next
Next

৬৮ কোটি টাকায় বিক্রি হলো Bugatti Veyron