আরও ৫টি অবিশ্বাস্য কনসেপ্ট কার
ছবিঃ সংগৃহীত
গতবার আমরা আমেরিকানদের তৈরি দারুণ কিছু কনসেপ্ট কার দেখেছিলাম, এবার নজর দিই এশিয়ার দিকে —জাপানের অসাধারণ কিছু ডিজাইন নিয়ে জানা যাক, যেগুলো দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোন না কোন কারণে উৎপাদনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি।
Toyota Alessandro Volta
Toyota সম্প্রতি বেশ কিছু চমক দেখিয়ে চলেছে। তারা বাজারে এনেছে GR Yaris, জনপ্রিয় মডেল Celica পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং GR GT হাইব্রিড সুপারকার বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। টয়োটার বর্তমান এই গাড়িগুলোর পাশাপাশি, অতীতেও কোম্পানিটি ঠিক এমনই আরেকটি দুর্দান্ত গাড়ি আনার উদ্যোগ নিয়ে সাড়া ফেলেছিল।
Italdesign Giugiaro-র ডিজাইন করা চমৎকার Alessandro Volta কনসেপ্টটির নামকরণ করা হয়েছিল ইলেকট্রিক ব্যাটারির আবিষ্কারক Alessandro Giuseppe Antonio Anastasio Volta-র নামানুসারে। ২০০৪ সালের Geneva Motor Show-তে উন্মোচিত এই গাড়িতে ছিল ৩.৩-লিটারের V6 গ্যাসোলিন হাইব্রিড ইঞ্জিন এবং দুটি ইলেকট্রিক মোটর, যা সম্মিলিতভাবে এর চারটি চাকাতেই ৪০২ HP পাঠাত। ০–১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তোলা যেত মাত্র ৪ সেকেন্ডে, আর এর সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিকভাবে ২৫০ কিমি/ঘণ্টায় সীমিত ছিল। কালজয়ী ডিজাইন এবং চরম দূরদর্শী ড্রাইভট্রেন থাকা সত্ত্বেও গাড়িটি সময়ের চেয়ে ছিল অনেক বেশি এগিয়ে এবং লাভজনক উপায়ে উৎপাদন করার কোন সম্ভাবনা ছিলনা। যার ফলে Toyota পরবর্তীতে এটির উৎপাদন পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়।
Mitsubishi HSR-II
হালের যুগে এই কোম্পানিটি শুধুই CVT-চালিত সাধারণ গাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। তবে এককালে Mitsubishi এমন সব কনসেপ্ট আর পরীক্ষামূলক গাড়ি তৈরি করত যা ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর। ১৯৮৯ সালের Tokyo Motor Show-তে প্রদর্শিত এই গাড়িটির পুরো নাম ছিল Highly Sophisticated-transport Research 2; আর তৎকালীন সময়ের বাস্তবতায় এটি আসলেই ছিল অবিশ্বাস্যরকমের উন্নত। ফাইটার জেটের মতো কেবিন, ব্যাকআপ ক্যামেরা এবং তখনকার হিসেবে অভাবনীয় পিচ্ছিল ০.২ কো-এফিশিয়েন্টের পাশাপাশি গাড়িটির পুরো বডিতে ছিল ছয়টি অ্যাক্টিভ অ্যারো প্যানেল, যা উচ্চ গতিতেও গাড়িটিকে মাটির সাথে চেপে থাকতে সাহায্য করত। এই তুমুল গতি আসত একটি ৩.০-লিটার টুইন-টার্বো V6 ইঞ্জিন থেকে, যা ৩৫০ HP শক্তি উৎপন্ন করত এবং অল-হুইল ড্রাইভে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ০–১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলত। এই তালিকার অন্য সব কনসেপ্টের মতোই গাড়িটি উৎপাদনের বাস্তবতায় সময়ের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল। তবে এই গাড়ির প্রযুক্তিগুলো পরবর্তীতে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসা কিছু মডেলে ব্যবহৃত হয়েছিল, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য Mitsubishi GTO।
Nissan MID4 Type II
Nissan-এর কর্মকর্তাদের মধ্যে সবসময়ই পারফরম্যান্সের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল এবং তারা নিজেদের সাধ্যের চেয়েও বড় কিছু করে দেখাতে পছন্দ করতেন। আশির দশকে কোম্পানিটি নিঃশব্দে এমন একটি গাড়ি তৈরির কাজে হাত দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল Ferrari Testarossa-কে সিংহাসনচ্যুত করা—যা তৎকালীন সময়ে অর্থের বিনিময়ে কেনা সেরা পারফরম্যান্স কার বলে বিবেচিত হতো। তাদের এই প্রচেষ্টার ফল ছিল MID4 Type II, যেখানে MID শব্দটি "Mid-Engine Four Wheel Drive"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। চোখধাঁধানো ও মসৃণ এই মিড-ইঞ্জিন স্পোর্টস কারটিতে শক্তি জোগাত একটি বাই-টার্বো ৩.০-লিটার V6 ইঞ্জিন, যা ৩৩০ HP উৎপন্ন করত এবং ফাইভ-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের মাধ্যমে চার চাকাতেই শক্তি পৌঁছাত। মজার ব্যাপার হলো, তালিকার বাকি গাড়িগুলোর ব্যতিক্রম MID4 Type II গাড়িটি ১৯৮৯ সালের Chicago Auto Show-তে অভিষেকের সময়েই কার্যত উৎপাদনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তৈরি করতে মাত্রাতিরিক্ত খরচ হবে আশংকায় Nissan শেষ পর্যন্ত এটিকে উৎপাদনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
Yamaha OX99-11
সুপারকারের কথা ভাবলে সাধারণত Yamaha নামটি মাথায় আসার কথা নয়। তবুও ১৯৯২ সালে এই মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি চার চাকার পারফরম্যান্স জগতে পা রেখেছিল, এবং তারা যা তৈরি করেছিল তা ছিল দেখার মতো। তারা F1-থেকে ধার করা একটি ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড ৩.৫-লিটার V12 ইঞ্জিন কিছুটা রি-টিউন করে কার্বন ফাইবার ও অ্যালুমিনিয়ামের সমন্বয়ে তৈরি মাত্র ১,১৫০ কেজি ওজনের একটি বডির সাথে জুড়ে দেয়। এর ফলে জন্ম নেয় মাত্র একজন বসার উপযোগী অত্যন্ত হালকা ওজনের একটি গাড়ি—যার ৪০০ HP ইঞ্জিনটি অবিশ্বাস্য ১০,০০০ আরপিএম (rpm) পর্যন্ত রেভ তুলতে পারত। ০–১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি উঠতে সময় নিত ৩.২ সেকেন্ডের কম এবং গাড়িটির তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ গতি ছিল ৩৫০ কিমি/ঘণ্টা। Yamaha গাড়িটি উৎপাদনে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল এবং প্রতি গাড়ির সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ডলার। কিন্তু অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং জাপানের তৎকালীন অর্থনৈতিক মন্দা তাদের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ইতি ঘটায়।
Mazda RX-500
গাড়িপ্রেমীদের মাঝে Mazda-র RX-7 এবং RX-8 রোটারি স্পোর্টস কার দুটি অত্যন্ত সুপরিচিত হলেও, সত্তরের দশকের তাদের হালকা ওজনের মিড-ইঞ্জিন রোটারি শুটিংস্পোর্টস কারটি সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন। ১৯৭০ সালের Tokyo Motor Show-তে প্রদর্শিত RX-500 ছিল অবিশ্বাস্য হালকা—প্লাস্টিকের বডি প্যানেল ব্যবহারের ফলে এর মোট ওজন ছিল মাত্র ৮৫০ কেজি। এই গাড়ির মূল আকর্ষণ ছিল একটি এয়ার-কুলড ৪৯১-সিসি Wankel রোটারি ইঞ্জিন, যা ২৪৭ HP শক্তি দিতে পারত এবং প্রায় ১৪,০০০ আরপিএম (rpm) পর্যন্ত রেভ করত। —অবিশ্বাস্য শোনালেও এক টনেরও কম ওজনের এই গাড়িতে ছিল একটি মোটরসাইকেলের আকারের ইঞ্জিন, যা বর্তমানের Toyota GT-86-এর চেয়েও বেশি পাওয়ার তৈরি করত। স্বাভাবিকভাবেই গাড়িটি ভীষণ দ্রুতগতির ছিল এবং সর্বোচ্চ ২৪১ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে পারত। তালিকার অন্যান্য গাড়ির মতোই এই অসাধারণ সৃষ্টিটিও কনসেপ্ট দশার বাইরে আর এগোতে পারেনি।
গতবার আমরা আমেরিকানদের তৈরি দারুণ কিছু কনসেপ্ট কার দেখেছিলাম, এবার নজর দিই এশিয়ার দিকে —জাপানের অসাধারণ কিছু ডিজাইন নিয়ে জানা যাক, যেগুলো দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোন না কোন কারণে উৎপাদনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি।