চাকরি ছাড়লেই ৯ কোটি টাকা দেবে BMW
ছবিঃ BMW
কর্মীসংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান BMW। আর কিছু কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে দেওয়া হবে কোটি কোটি টাকা।
২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি চালু হওয়া BMW-এর স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার পোর্টালে আওতাভুক্ত কর্মীরা নিজেদের জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেখতে পারেন। জার্মান ব্যবসায়িক সংবাদপত্র Handelsblatt-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার কর্মীকে এই পোর্টালে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রত্যেক কর্মী দেখতে পারতেন, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে BMW তাঁকে কত টাকা দিতে রাজি।
জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর Handelsblatt-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারা একটি গোপনীয় চাকরি অবসান চুক্তির নমুনা পেয়েছে যাতে এই কর্মসূচির অর্থ পরিশোধের কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। এতে কিছু কর্মীকে চাকরী ছাড়ার জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরোরও বেশি অর্থ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। BMW-এর একজন মুখপাত্র অবশ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অঙ্কটি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চালুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্মীরা নিজেদের প্রস্তাব দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় পোর্টালটি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে। ব্যাপক সাড়ার কারণে সাময়িকভাবে নতুন আবেদন গ্রহণও বন্ধ রেখেছিল BMW।
এখানে উল্লেখ্য, ৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো সবার জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ নয়। এটি হাতেগোনা কয়েকজন কর্মীর জন্য প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ সীমা। ধারণা করা হচ্ছে, অধিকাংশ কর্মী চাকরি ছাড়ার জন্য এর তুলনায় উল্লেখযোগ্য রকম কম অর্থ পাবেন।
২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৮ হাজার পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু করেছে BMW। বিশেষ করে নজর দেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের পদ কমানোর দিকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মীরা চাকরি ছাড়ার জন্য দুটি তারিখের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবেন: ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ অথবা ৩১ অক্টোবর। যাঁরা প্রথম সময়সীমা বেঁছে নেবেন, তাঁরা মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ‘Turbo Bonus’ পাবেন। অর্থাৎ আগেভাগে চাকরি ছাড়ার জন্য কর্মীদের আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।
BMW কত টাকা দেবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে বেতন, বয়স এবং প্রতিষ্ঠানে চাকরির মেয়াদ। অর্থাৎ, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে BMW-তে কাজ করছেন এবং যাঁদের বেতন বেশি, তারাই সবচেয়ে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাবেন।
২০২৭ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাঁদের বয়স ৫৫ বছর হবে, তাঁরা BMW-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য স্বাভাবিক নিয়মেই প্রাপ্য কিছু সুবিধা পেতে পারেন। এতে তাঁদের চাকরি ছাড়ার প্যাকেজের মোট মূল্য আরও বাড়তে পারে।
কর্মীরা কীভাবে অর্থ গ্রহণ করবেন, সে ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বাধীনতা থাকছে। কর্মসূচির প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, এককালীন অর্থ, কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ, অবসরকালীন সঞ্চয়ে অর্থ জমা, সরাসরি বিমা বাবদ অর্থ পরিশোধ কিংবা একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে টাকা দেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাকরি অবসান চুক্তির নমুনায় কর্মসূচিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ হিসেবে ২০২৭ সালের ৩১ অক্টোবর উল্লেখ রয়েছে।
BMW ছেড়ে দিলেই অবশ্য প্রতিষ্ঠানের সব সুযোগ-সুবিধা হারাতে হবে, এমন নয়। চাকরি ছেড়ে যাওয়া কিছু কর্মী নতুন ও ব্যবহৃত BMW গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছাড়সহ নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা ধরে রাখতে পারেন।
খরচ কমানো এবং ব্যবসার কাঠামো নতুন করে সাজানোর চাপে শুধু BMW-ই কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে না। Porsche প্রায় ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই সংক্রান্ত পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে Jaguar Land Rover-ও স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার কর্মসূচি চালু করেছে।
BMW-এর লক্ষ্য, কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে উৎসাহিত করে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীসংখ্যা কমানো। কারও জন্য এই প্রস্তাব হতে পারে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুরক্ষাসহ আগাম অবসরে যাওয়ার সুযোগ। অন্যদের হাতে আসবে তুলনামূলক ছোট অঙ্কের চেক, আর সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও হবে অনেক কঠিন।
কর্মীসংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান BMW। আর কিছু কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে দেওয়া হবে কোটি কোটি টাকা।