পেট্রোল গাড়িকেও “জিরো এমিশন” বলতে চায় Toyota
ছবিঃ Toyota
Toyota চায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) যেন কিছু পেট্রোলচালিত গাড়িকে শূন্য নিঃসরণকারী (Zero Emission) যান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সমস্যা হলো, এসব গাড়ির এক্সহস্ট দিয়ে ঠিকই কার্বন নির্গত হবে।
Toyota প্রস্তাবটিকে “অংশীদারত্ব ও বাস্তববাদিতার” আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা চায় গাড়িগুলো VEEF নামে একটি নতুন শ্রেণির আওতায় আসুক। VEEF-এর পূর্ণরূপ হলো Vehicles running Exclusively on Eligible renewable Fuels। অর্থাৎ, যেসব গাড়ি কেবল অনুমোদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে, সেগুলো এই শ্রেণিতে পড়বে। জৈব বর্জ্য, বায়োগ্যাস কিংবা সিনথেটিক ই-ফুয়েলের মতো উৎস থেকে তৈরি অনুমোদিত জ্বালানি ব্যবহার করলেই শুধু এসব গাড়িকে ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক গাড়ির সমান মর্যাদা দেওয়া হবে।
বলা বাহুল্য, প্রচলিত পেট্রোল চালিত গাড়িগুলো এই শ্রেণীর সুবিধা পাবে না। কারণ, সেটি পুরো পরিকল্পনার উদ্দেশ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে।
বর্তমান EU নিয়ম অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল থেকে নতুন গাড়ি ও ভ্যানের ইঞ্জিনের কার্বন নিঃসরণ ১০০ শতাংশ কমাতে হবে। কার্যত এর অর্থ, শুধু জ্বালানি ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল নতুন গাড়ি বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে European Commission আরও নমনীয় একটি লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি নিঃসরণের কিছু অংশ অনুমোদিত জ্বালানি ব্যবহার কিংবা গাড়ি তৈরিতে কম-কার্বন নিঃসরণকারী ইস্পাত ব্যবহারের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
Toyota চায়, এই হিসাবের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদানও বিবেচনা করা হোক। একটি গাড়ির এক্সহস্ট দিয়ে কতটুকু কার্বন নির্গত হচ্ছে, শুধু সেটি দিয়ে বিচার না করে, জ্বালানির পুরো জীবনচক্রের (Life Cycle) নিঃসরণ হিসাব করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্জ্য কিংবা বাতাস থেকে ধারণ করা কার্বন ব্যবহার করে তৈরি জ্বালানির মাধ্যমে যে কার্বন সাশ্রয় হবে, তা জ্বালানি পোড়ানোর সময় নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড-এর বিপরীতে হিসাব করা যাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটির খসড়ায় ২০২৮ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের সময়সীমার কথা বলা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত শর্তাবলি এখনও নির্ধারিত হয়নি। এই প্রস্তাব Toyota-র দীর্ঘদিনের অবস্থানের প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি, কম নিঃসরণকারী পরিবহনে রূপান্তরের সময় জ্বালানি ইঞ্জিনকে পুরোপুরি সরিয়ে না দিয়ে এরও একটি ভূমিকা রাখা উচিত। অর্থাৎ, সব মনোযোগ শুধু ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে দেওয়া ঠিক হবে না।
তবে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন হলো, শূন্য নিঃসরণকারী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একটি গাড়ি সত্যিই অনুমোদিত জ্বালানি ব্যবহার করছে কি না, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। এই জটিলতার সম্ভাব্য একটি সমাধান পরীক্ষা করছে Toyota। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্পেনে ছয় মাসের একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে Toyota, BMW এবং Mini-এর প্রায় ২০টি গাড়ি অংশ নিচ্ছে।
সব গাড়িতেই ব্যবহার করা হচ্ছে Repsol-এর Nexa 95, যা শতভাগ নবায়নযোগ্য পেট্রোল। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর দাবি, যান্ত্রিক কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এই জ্বালানি প্রচলিত ইঞ্জিন ও বিদ্যমান জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামোর সঙ্গে কাজ করে। Bosch-এর Digital Fuel Twin সিস্টেম দিয়ে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা গাড়ির তথ্যের সঙ্গে জ্বালানি কার্ডের রেকর্ড মিলিয়ে দেখে, গাড়িগুলো প্রচলিত পেট্রোল ব্যবহার করেছে কি না।
ইস্যুটা হল, অল্প কয়েকটি গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু ইউরোপজুড়ে লাখ লাখ গাড়ির ওপর একই নজরদারি চালানো সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে যেকোনো ব্যবস্থাকে এটি প্রমাণ করতে হবে যে চালক কিংবা গাড়ি পরিচালনাকারীরা রেকর্ডে কারসাজি করতে পারবেন না বা গোপনে সাধারণ পেট্রোলে ফিরে যেতে পারবেন না।
প্রস্তাবটি সফল হলেও ব্যবহৃত পরিভাষা নিয়ে কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। নবায়নযোগ্য পেট্রোলে চলা গাড়ির এক্সহস্ট দিয়েও কার্বন নির্গত হবে। তাই একে ‘শূন্য নিঃসরণকারী’ বলা হলে তা কেবল জ্বালানির সামগ্রিক জীবনচক্রের কার্বন হিসাবকেই প্রতিফলিত করবে; এক্সহস্ট দিয়ে বাস্তবে যে দূষণ বের হচ্ছে, তা কিন্তু নয়।
শেষ পর্যন্ত EU-এর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এই যুক্তি মেনে নেবে কি না, তা নির্ভর করবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর তাদের আস্থা কতটা এবং গাড়িগুলোতে এসব জ্বালানি সত্যিই ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা প্রমাণের ব্যবস্থার ওপর তারা কতটা ভরসা করতে পারছে তার ওপর।
জ্বালানি লিক থেকে আগুন লাগার ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখেরও বেশি Land Cruiser Hybrid SUV ফিরিয়ে নিচ্ছে Toyota।