বড় ব্যাটারি, অধিক শক্তি নিয়ে ফিরল Lexus-এর NX

ছবিঃ Lexus

২০২৭ সালের Lexus NX হালনাগাদ নকশা, আরো শক্তিশালী এবং বড় ব্যাটারি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরে এসেছে। বাদ পড়েছে সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিন। এখন গাড়িটির পুরো লাইনআপই হাইব্রিড।

আপডেট করা NX-এ রয়েছে নতুন নকশার সামনের অংশ, নতুন টেইললাইট এবং ক্রোমের বদলে কালো অ্যাকসেন্ট। সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়েও এসেছে পরিবর্তন, পাশাপাশি বেড়েছে চ্যাসিসের দৃঢ়তা। উদ্দেশ্য এই কমপ্যাক্ট ক্রসওভারটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা।

সুরক্ষার জন্য এবার প্রতিটি সংস্করণেই থাকছে Lexus Safety System+ 4.0। এর মধ্যে রয়েছে রাডার ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন সেন্টারিং, যানজটে চালানোর সহায়তা, লেন পরিবর্তনের সহায়তা এবং স্বয়ংক্রিয় হাই বিম।

তবে সবচেয়ে বড় আপগ্রেড পেয়েছে প্লাগ-ইন হাইব্রিড NX 450h+। এর ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ১৮.১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়ে আছে ২২.৭ কিলোওয়াট-ঘণ্টায়। ফলে আনুমানিক বৈদ্যুতিক রেঞ্জ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ মাইল, যা আগের চেয়ে ৮ মাইল বেশি। প্রথমবারের মতো এতে যুক্ত হয়েছে DC ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধা। উত্তর আমেরিকার গাড়িগুলোতে আরো রয়েছে NACS চার্জিং পোর্ট।

Lexus-এর দাবি, ৫০ কিলোওয়াটের DC চার্জার ব্যবহার করে ব্যাটারির চার্জ ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে নিতে সময় লাগবে মাত্র ৩৫ মিনিট। অন্যদিকে, ৬.৬ কিলোওয়াটের ২৪০ ভোল্ট AC চার্জার দিয়ে ১০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ করতে সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।

একইসাথে, NX 450h+ এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এর সম্মিলিত ক্ষমতা ৩০৪ হর্সপাওয়ার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২৪ হর্সপাওয়ার। এই বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সামনের মোটর-জেনারেটর, যার শক্তি ১৮০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৩ হর্সপাওয়ার। ২.৫ লিটারের পেট্রোল ইঞ্জিনটি উৎপন্ন করে ১৮৬ হর্সপাওয়ার, আর পেছনের বৈদ্যুতিক মোটর যোগ করে আরও ৫৪ হর্সপাওয়ার। সব সংস্করণেই থাকছে অল-হুইল ড্রাইভ।

Lexus-এর দাবি, NX 450h+ মাত্র ৫.৭ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে পারে। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২৪ মাইল। একটি পারিবারিক ক্রসওভারের জন্য এই গতি প্রশংসনীয়। তবে স্কুলে সন্তান পৌঁছে দেওয়া আর সুপারমার্কেটে বাজার করতে যাওয়ার লক্ষ্যে তৈরি একটি গাড়ি কেন এত দ্রুত গতি তোলার প্রয়োজন, তা অন্য প্রশ্ন।

সাধারণ হাইব্রিড NX 350h-ও সামান্য শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে। এর সম্মিলিত পাওয়ার ৪ হর্সপাওয়ার বেড়ে হয়েছে ২৪৪ হর্সপাওয়ার। সামনের চাকা ও চার চাকার ড্রাইভ—দুই সংস্করণই একই শক্তি উৎপন্ন করবে বলে জানিয়েছে Lexus। অল-হুইল ড্রাইভ সংস্করণটি ৬.৭ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছায়। সামনের চাকা চালিত সংস্করণটির লাগে ৬.৯ সেকেন্ড।

সামনের মোটর-জেনারেটরটি ১৬০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করে। অল-হুইল ড্রাইভ সংস্করণে অতিরিক্ত হিসেবে পেছনে রয়েছে ৫৪ হর্সপাওয়ারের বৈদ্যুতিক মোটর। হাইব্রিড ব্যবস্থাটিও সংশোধন করেছে Lexus, যাতে গাড়িটি আরও বেশি বৈদ্যুতিক মোটরের ওপর নির্ভর করে। এর লক্ষ্য হলো দ্রুত গতি তোলা এবং বেশি টর্ক নিশ্চিত করা। তবে ব্যাটারির ধারণক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। সেটি আগের মতোই ১.১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা আছে।

প্রতিটি NX-এর ভেতরে থাকছে ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং Lexus-এর সর্বাধুনিক সফটওয়্যারচালিত ১৪ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন। স্টিয়ারিং হুইলটি সামান্য ছোট করা হয়েছে। ড্যাশবোর্ডজুড়ে থাকা নরম স্পর্শের অনুভূতিসম্পন্ন সমান্তরাল প্যানেলের আড়ালে রাখা হয়েছে কয়েকটি দ্রুত সাড়াদানকারী সুইচ। এগুলো দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, উইন্ডশিল্ডের বরফ সরানো এবং কাচের কুয়াশা দূর করার ব্যবস্থা পরিচালনা করা যায়।

আগের বেস ট্রিমটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন ক্রেতারা Premium, Premium+, F SPORT এবং Luxury—এই চারটি ট্রিমের মধ্যে বেছে নিতে পারবেন। তবে নতুন মডেলগুলোর দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

গাড়িটির উৎপাদন হবে জাপান ও কানাডায়। NX 350h তৈরি হবে কানাডার অন্টারিওতে Toyota Motor Manufacturing Canada এবং জাপানে Toyota Motor Kyushu কারখানায়। অন্যদিকে, NX 450h+ তৈরি হবে শুধু জাপানের কারখানায়।

বাংলাদেশে কখন এই নতুন Lexus NX আসবে, তা বলা কঠিন। Toyota গত বছরের শেষে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আগামী বছরগুলোতে স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজনের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। তবে Lexus ব্র্যান্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে আনার ব্যাপারে কিছু বলেনি প্রতিষ্ঠানটি।

তাই আপাতত Lexus NX বাংলাদেশে আসার সম্ভাব্য পথ সেই পুরোনো গ্রে ইমপোর্ট। যাদের কাছে অর্থ খরচ করা কোন ব্যাপারই না তারা নতুন নিয়ে আসবেন। আর যাদের বাজেটের সমস্যা আছে, তারা জাপান থেকে দুই তিন বছরের পুরনো রিকন ইউনিট আনবেন।

সোজা ভাষায়, আর দুই তিন বছরের মধ্যে হয়তোবা ঢাকার রাস্তায় বেশ কিছু নতুন Lexus NX দেখা যাবে।

Previous
Previous

পেট্রোল গাড়িকেও “জিরো এমিশন” বলতে চায় Toyota

Next
Next

৩৫% সাশ্রয়ে গাড়ি তৈরি করছে চীন