Mitsubishi-তে জীবন ফেরাচ্ছে Pajero

ছবিঃ Mitsubishi

অনেক দিন পর Mitsubishi প্রায় ভুলে যাওয়া এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে: মানুষ সত্যিই তাদের গাড়ি কিনতে চাইছে। জাপানে শোরুমে পৌঁছানোর আগেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তাদের নতুন করে ফিরিয়ে আনা Pajero।

২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে Pajero-র প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু হয়। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে Mitsubishi পেয়েছে প্রায় ৫,৫০০টি অর্ডার। ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটির নির্ধারিত বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য এই সংখ্যাই যথেষ্ট।

তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন SUV-টি শুধু পুরোনো Pajero মালিকদের নস্টালজিয়ার ওপর নির্ভর করছে না। বরং তাদের সাথে আগ্রহ দেখাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহারকারীরাও।

Automotive News-এ প্রকাশিত Mitsubishi-র তথ্য অনুযায়ী, ক্রেতাদের প্রায় ৮০ শতাংশই আসছেন অন্য ব্র্যান্ড থেকে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আগে Pajero বা Mitsubishi-র অন্য কোনো গাড়ি ব্যবহার করতেন, পরে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। Pajero-র প্রত্যাবর্তনের সাথে এবার তাঁরা আবার Mitsubishi-তে ফিরছেন। অন্যদিকে, কয়েকজন ক্রেতার Pajero-র সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক স্মৃতি। তাঁদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাঁদের বাবা-মায়েরও Pajero ছিল।

নতুন মডেলটি বিভিন্ন ধরনের গাড়ির মালিকদের আকৃষ্ট করছে। এর মধ্যে রয়েছে শক্তপোক্ত অফ-রোডার, সাধারণ SUV এবং বড় আকারের মিনিভ্যান ব্যবহারকারী। বর্তমানে যারা Mitsubishi ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে Delica D:5, Outlander এবং আগের প্রজন্মের Pajero মালিকেরা সবচেয়ে বেশি পুরোনো গাড়ি বদলে নতুন Pajero নিচ্ছেন। অর্থাৎ, নতুন ফ্ল্যাগশিপটি শুধু পুরোনো দিনের স্মৃতি বিক্রি করছে না। এটি পুরোনো ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের ক্রেতাদেরও টানছে।

প্রায় ৭০ শতাংশ অর্ডার এসেছে সবচেয়ে দামি Super Exceed সংস্করণের জন্য। এর দাম ৭,৯৫০,৮০০ ইয়েন, যা প্রায় ৫১,৪০০ ডলার বা ৬৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাকি তিনটি সংস্করণ হলো Exceed, GSR এবং GLS। এগুলোর দাম শুরু হয়েছে ৬,১৯৩,০০০ ইয়েন থেকে, যা প্রায় ৪০,০০০ ডলার বা ৫০ লাখ টাকা।

সবচেয়ে দামি Super Exceed সংস্করণে রয়েছে সেমি-অ্যানিলিন লেদার আপহোলস্ট্রি (semi-aniline leather upholstery), ২০-ইঞ্চি অ্যালয় হুইল, ১২-স্পিকারের ইয়ামাহা সাউন্ড সিস্টেম এবং সামনের আসনের জন্য ভেন্টিলেটেড সিট। এমনকি প্রথম দুই সারির আসনেই রয়েছে হিটেড সিটের সুবিধা। শীর্ষ সংস্করণটির প্রতি ক্রেতাদের এই বাড়তি আগ্রহ প্রমাণ করে, Pajero-র বিখ্যাত অফ-রোড সক্ষমতার পাশাপাশি আরাম ও বিলাসিতার জন্যও তাঁরা বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে প্রস্তুত।

জাপানের বাজারে নতুন Pajero-র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে ২০২৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

সাম্প্রতিক সময়ে Mitsubishi তাদের সহ প্রতিষ্ঠান Renault ও Nissan-এর বেশ কয়েকটি মডেলে নিজেদের ব্যাজ লাগিয়ে বিক্রি করা শুরু করেছে। তবে নতুন Pajero সম্পূর্ণ Mitsubishi-র নিজস্ব প্রকল্প। এতে ব্যবহার করা হয়েছে Triton পিকআপের ladder-frame প্ল‍্যাটফর্ম। ফলে এটি শুধু অ্যাডভেঞ্চারের সাজে তৈরি সাধারণ কোনো SUV নয়, বরং একটি খাঁটি ও শক্তিশালী অফ-রোডার।

Pajero-র প্রত্যাবর্তন Mitsubishi-র অন্য আইকনিক মডেলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আশা জাগিয়েছে। গাড়িপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরেই Lancer Evolution ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। কোম্পানির প্রেসিডেন্ট Keisuke Kishiura-ও Evo, Galant এবং Diamante-কে Mitsubishi-র "রত্ন" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আশা, একদিন তিনটি নামই আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির এখনো নতুন Lancer Evolution তৈরির কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এমন প্রকল্প বিবেচনা করার আগে কোম্পানিটি নিজেদের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী এবং বেশি বিক্রি হবে এমন মডেলের গাড়ির লাইনআপ বাড়াতে চায়।

Previous
Previous

Gallardo-তে ফিরল V10 ও ম্যানুয়াল

Next
Next

চীনের ভয়ে AI-এর শরণাপন্ন Mercedes