Veyron-কে আয়নার রূপ দিল Bugatti

ছবিঃ Bugatti

Bugatti তাদের একটি Veyron Grand Sport Vitesse-কে ফিরিয়ে এনেছে আদি রূপে। গাড়িটির শরীরে দেওয়া হয়েছে আয়নার মত পলিশড্ অ্যালুমিনিয়ামের রূপ।

8.100 চ্যাসিসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো উন্মুক্ত ও পালিশ করা অ্যালুমিনিয়ামের বডি। প্রচলিত রঙের পরিবর্তে এতে ব্যবহার করা হয়েছে আয়নার মতো চকচকে ফিনিশ। এতে Veyron-এর ভাস্কর্যের মতো গড়নের প্রতিটি বাঁক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আর গাড়িটির অনুপাতও দেখাচ্ছে অধিকতর আকর্ষণীয়। বাইরের এই বিশেষ ফিনিশের সঙ্গে রয়েছে Carmine Red চামড়ার ইন্টেরিয়র, উন্মুক্ত কার্বন ফাইবার এবং হাতে তৈরি বিভিন্ন খুঁটিনাটি।

Bugatti জানিয়েছে, এই বিশেষ বডি তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ২০ টন ওজনের অ্যালুমিনিয়ামের ব্লক প্রয়োজন হয়েছিল। প্রকল্পটির শুরুতে ব্যাপক নকশা গবেষণা করা হয়। গাড়িটির গড়ন, পৃষ্ঠতল এবং আলোর প্রতিফলন কীভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করবে, তা খুঁটিয়ে দেখা হয়েছিল। নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর Molsheim-এর বিশেষজ্ঞরা সেটিকে বাস্তবে রূপ দেন। গাড়িটির ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য কাজের প্রতিটি ধাপও নথিভুক্ত করা হয়।

চ্যাসিস নম্বর 8.100 গাড়িটি Bugatti-এর La Maison Pur Sang হেরিটেজ কর্মসূচির আওতায় পুনরুদ্ধার ও সত্যতা যাচাইয়ের করা হয়। পুনরুদ্ধারের সময় গাড়িটিকে তার মূল কারখানার স্পেসিফিকেশনেও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। Bugatti-এর দল গাড়িটির বিভিন্ন অংশে সংস্কার এবং সত্যতা যাচাই করেছে, পাশাপাশি পূর্বের মালিকের যোগ করা সকল ব্যক্তিগত পরিবর্তনগুলো সরিয়ে নিয়েছে।

Bugatti নতুন মালিকের নাম প্রকাশ করেনি। তবে Formula 1 চালক Fernando Alonso-কে Monaco-র রাস্তায় এই নজরকাড়া রোডস্টার চালাতে দেখা গেছে। ৪৫ বছর বয়সী এই দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মূল‍্যবান ও বিরল গাড়ির প্রতি আগ্রহের জন্য পরিচিত। তবে তাঁকে গাড়িটির চালকের আসনে দেখা যাওয়ার অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট এই Veyron-টির মালিক তিনিই।

২০১৩ সালে Veyron Grand Sport Vitesse ঘণ্টায় ৪০৮.৮৪ কিলোমিটার বা ২৫৪ মাইল গতিতে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। এর মাধ্যমে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ছাদখোলা বাণিজ্যিক উৎপাদন গাড়ির স্বীকৃতি পায়। ২০২৪ সালে Chiron-ভিত্তিক Mistral ঘণ্টায় ৪৫৩.৯১ কিলোমিটার বা ২৮২ মাইল গতিতে পৌঁছে সেই রেকর্ড ভেঙে দেয় এবং বিশ্বের দ্রুততম ছাদখোলা গাড়ির স্থান দখল করে।

Bugatti-এর এমন পুনরুদ্ধার প্রকল্প এবং বিরল গাড়ি নতুন করে সামনে আনার উদ্যোগ Veyron-কে আলোচনায় রাখছে। কখনো কখনো মনে হয়, প্রতিষ্ঠানটি বুঝি মূল ৪৫০টির চেয়েও বেশি Veyron তৈরি করেছিল। বাস্তবে তা নয়। পুরোনো গাড়ি পুনরুদ্ধার করলে উৎপাদনের সংখ্যা বাড়ে না, যদিও প্রতিটি প্রকল্প ঘিরে প্রচারণা দেখে মনে হতে পারে কারখানা থেকে আরও একটি নতুন Veyron বেরিয়ে এসেছে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে Chiron-ও হয়তো একই ধরনের পুনরুদ্ধার ও সার্টিফিকেশন কর্মসূচির আওতায় আসবে। সম্প্রতি Volkswagen Group-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে Bugatti। পুরোনো গাড়িগুলোর ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সেগুলোর বাজারমূল্য ও প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার আরেকটি উপায় হতে পারে এই কর্মসূচি।

Veyron-এর উৎপাদন ৪৫০টি গাড়িতে সীমাবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে Chiron তৈরি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০০টি, অর্থাৎ Veyron-এর চেয়ে ৫০টি বেশি। ফলে ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার ও সার্টিফিকেশন সেবা দেওয়ার জন্য Bugatti-এর সামনে সম্ভাব্য ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকবে। Tourbillon আরও বিরল হবে, কারণ এর উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে মাত্র ২৫০টি গাড়িতে।

তবে Veyron ও Chiron-এর বিপরীতে Tourbillon-এর উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই সব গাড়ি বিক্রি হয়ে গেছে। অর্থাৎ, Bugatti তাদের ভবিষ্যৎ অধ্যায়ের ক্রেতা ইতিমধ্যেই খুঁজে পেয়েছে। আর এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করছে, তাদের অতীতও আক্ষরিক অর্থেই যেন উজ্জ্বল থাকে।

Previous
Previous

বাবার সম্মানে ৮৬০ হর্সপাওয়ারের Porsche বানালো মেয়ে

Next
Next

চাকরি ছাড়লে ৯ কোটি টাকা দেবে BMW