Suzuki-এর নতুন গাড়িতে BYD-এর ব্যাটারি

ছবিঃ BYD

বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে চীনা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে এমন গাড়ি নির্মাতাদের তালিকায় এবার যোগ হলো Suzuki।

Suzuki-এর নতুন e-Sky প্রতিষ্ঠানটির প্রথম যাত্রীবাহী বৈদ্যুতিক Kei car। CarNewsChina-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, e-Sky-তে রয়েছে BYD-এর Blade battery। ২৬ kWh এই লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি এক চার্জে WLTP মানদণ্ড অনুযায়ী ৩১০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারবে। তবে বাকি গাড়িটি Suzuki-র নতুন বৈদ্যুতিক প্ল্যাটফর্মের ওপর তৈরি এবং এর e-Axle ড্রাইভ সিস্টেমটিও তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি।

e-Sky জাপানের সবচেয়ে সস্তা বৈদ্যুতিক Kei car, দাম শুরু হচ্ছে ২১ লাখ ২০ হাজার ইয়েন থেকে, যা প্রায় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পেট্রোলচালিত Kei car-এর বাজারে বহু বছর আধিপত্য ধরে রাখার পর এই গাড়ির মাধ্যমে যাত্রীবাহী EV বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু ২০২৫ সালেই প্রতিষ্ঠানটি ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩২টি পেট্রোলচালিত Kei car বিক্রি করেছে।

নতুন এই গাড়িকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে BYD Racco-এর সঙ্গে, যা গত বছর জাপানের Kei car বাজারে প্রবেশ করেছে। দুটি গাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই—যথাক্রমে ৩,৩৯৫ মিলিমিটার ও ১,৪৭৫ মিলিমিটার। তবে e-Sky-এর উচ্চতা ১,৬২৫ মিলিমিটার এবং হুইলবেস ২,৪৬০ মিলিমিটার। অন্যদিকে, Racco-এর উচ্চতা ১,৮০০ মিলিমিটার এবং হুইলবেস আরও লম্বা, ২,৫২০ মিলিমিটার।

তবে ওজনের দিক থেকে এগিয়ে আছে Suzuki। e-Sky-এর ওজন ১,০৩০ কেজি। তুলনায়, ২২.৪ kWh ব্যাটারিযুক্ত BYD Racco-এর ওজন ১,১৬০ কেজি। আর ৩৫.৮৪ kWh ব্যাটারির সংস্করণটির ওজন ১,২২০ থেকে ১,২৩০ কেজি। ওজন কম হওয়ায় Racco-এর তুলনায় ছোট ব্যাটারি নিয়েও e-Sky বেশি দুরত্ত পার দিতে পারে।

e-Sky তিনটি সংস্করণে পাওয়া যাবে, যদিও সবচেয়ে সাদামাটা সুলভ সংস্করণটি মূলত করপোরেট গ্রাহকদের জন্য অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করা হবে । খরচ কম রাখতে এতে রাখা হয়নি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। তিনটি সংস্করণ মিলিয়ে প্রতি মাসে ১,০০০টি গাড়ি বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে Suzuki।

জাপান সরকারের ভর্তুকি গাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। যোগ্য ক্রেতারা ৫ লাখ ৬৮ হাজার ইয়েন বা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভর্তুকি পেতে পারেন। এতে গাড়িটির কার্যকর প্রারম্ভিক দাম নেমে আসে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ইয়েনে, যা প্রায় ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ফলে ভর্তুকির পর ১৯ লাখ ৯০ হাজার ইয়েন দামের BYD Racco (১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) এবং ১৮ লাখ ৬০ হাজার ইয়েন দামের Nissan Sakura (প্রায় ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা)—দুটিকেই দামে পেছনে ফেলছে Suzuki। 

BYD-এর নিজস্ব Kei car-ও বাজারে ভালো সূচনা করেছে। জুলাইয়ে বাজারে আসার পর থেকে Racco বিক্রি হয়েছে ১,৮০০টি। পাশাপাশি, BYD শ্রীলঙ্কা ও Macao-তে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও করছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তির জন্য চীনের দিকে ঝুঁকে পড়া প্রথম জাপানি নির্মাতা কিন্তু Suzuki নয়। Toyota ইতোমধ্যে  তাদের কয়েকটি গাড়িতে BYD-এর ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, Mazda ও Nissan আরও এক ধাপ এগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির জন্য চীনে তৈরি গাড়িতে নিজেদের ব্র্যান্ডের নাম বসিয়ে বিক্রি করছে।

পুরো গাড়িশিল্পেই এখন এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে ব্যাটারি, ইলেকট্রনিকস সহ পুরো  উৎপাদন ব্যবস্থায় বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর এসব ক্ষেত্রে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আরো আগেই  বড় ধরনের ভীত তৈরি করে ফেলেছে। প্রচলিত সাশ্রয়ী ছোট গাড়ি তৈরিতে অভিজ্ঞ নির্মাতারাও বুঝতে পারছে, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো EV তৈরির সবচেয়ে দ্রুত পথ হতে পারে চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করা।

এখানে ভাগ্যের পরিহাসটা এড়ানো কঠিন। যে জাপান এককালে দুনিয়াকে স্বল্প ব‍্যয়ের ছোট গাড়ির আধুনিক রূপ শিখিয়েছিল, আজ সেই দেশের নির্মাতাদেরই পরিবেশবান্ধব ইভি প্রযুক্তির জন্য ক্রমাগত চীনের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

Next
Next

ফিরে এল Citroën 2CV, দাম হবে ২০ লাখ