ছবিঃ Honda
অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ পিকআপ ট্রাক আনছে Honda। তবে একটি ছোট্ট সমস্যা: গাড়িটি Mitsubishi-র কাছ থেকে ধার করা।
জাপানের এই দুই গাড়ি নির্মাতা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে, যার আওতায় Mitsubishi L200-এর ওপর ভিত্তি করে Honda-র ব্যাজযুক্ত একটি পিকআপ তৈরি হবে, যার বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২০২৮ সালে।
Honda যে শূন্য থেকে নিজস্ব পিকআপ তৈরি না করে Mitsubishi-র বিদ্যমান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে, সেই খবর আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। এই চুক্তি সেই সংবাদটি নিশ্চিত করল। Honda এখনও গাড়িটির নাম প্রকাশ করেনি, উৎপাদন সংস্করণের ছবি দেখায়নি কিংবা Triton-এর তুলনায় নকশা ও সরঞ্জামে কতটা পরিবর্তন থাকবে, তাও জানায়নি। আপাতত ধারণা করা যায়, ব্যাজ বদলানোর কাজটাই এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।
দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাড়ি সরবরাহের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম পারস্পরিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট ASEAN অঞ্চলে Honda-র বর্তমানে কোনো পিকআপ নেই। তাই Mitsubishi-র প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নতুন গাড়ি তৈরির বিপুল খরচ এবং দীর্ঘ উন্নয়নপ্রক্রিয়া এড়িয়ে লাভজনক এই বাজারে দ্রুত প্রবেশ করতে পারবে Honda।
Mitsubishi L200, যা কিছু বাজারে Triton নামেও বিক্রি হয়, একটি এক টন ধারণক্ষমতার পিকআপ। এর ভিত্তি মজবুত ল্যাডার-ফ্রেম চ্যাসিস। বাজারভেদে এতে পাওয়া যায় ২.৪ লিটারের টার্বোচার্জড চার-সিলিন্ডার ডিজেল ইঞ্জিন অথবা সাধারণ ২.৪ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন। সবচেয়ে শক্তিশালী টুইন-টার্বো ডিজেল সংস্করণটি সর্বোচ্চ ২০১ hp শক্তি এবং ৪৭০ Nm (৩৪৭ lb-ft) টর্ক উৎপাদন করে। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ছয়-গতির স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স।
বাজারভেদে সরঞ্জামের পার্থক্য থাকলেও সব L200-এ Mitsubishi-র Super Select 4WD-II ফোর-হুইল-ড্রাইভ ব্যবস্থা, লকিং রিয়ার ডিফারেনশিয়াল এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের জন্য সাতটি ড্রাইভ মোড পাওয়া যায়। কিছু বাজারে গাড়িটির সর্বোচ্চ টোয়িং সক্ষমতা ৩.৫ টন।
ফলে কঠিন কাজ, ভাঙাচোরা রাস্তা ও অফ-রোড পরিস্থিতি সামলানোর জন্য Honda একটি শক্ত ভিত্তি পাচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় Honda-র বিদ্যমান Ridgeline ইউনিবডি কাঠামোর ওপর তৈরি, যা গুরুতর কাজের চেয়ে সাধারণ সড়কে চলাচলের জন্য বেশি উপযোগী। নতুন বডি-অন-ফ্রেম পিকআপ তৈরি করতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হতো।
২০২৮ সালে গাড়িটি বাজারে আনার লক্ষ্য মূলত ASEAN অঞ্চলের জন্য। Honda জানিয়েছে, তারা পিকআপটি প্রধানত এই অঞ্চলেই বিক্রি করবে। অন্য অঞ্চলে গাড়িটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
ছবিঃ Mitsubishi
এমন দুই প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম ভাগাভাগি নতুন কিছু নয়। Mitsubishi ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন বাজারে সর্বশেষ Nissan Navara সরবরাহ করছে। সেই Nissan-এর মৌলিক কাঠামোও Triton-এর সঙ্গে অভিন্ন। Honda-র পিকআপ একই কৌশল অনুসরণ করবে, ফলে আরেকটি ব্র্যান্ড Mitsubishi-র বিদ্যমান প্রকৌশল সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে।
এই চুক্তি ২০২৪ সালের আগস্টে Honda, Nissan ও Mitsubishi-র মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্বের কাঠামোরও ধারাবাহিকতা। তিনটি প্রতিষ্ঠান গাড়ি ভাগাভাগি এবং প্রকৌশল ও উৎপাদনসম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপায় খতিয়ে দেখেছে। Honda ও Nissan-এর বৃহত্তর একীভূতকরণের পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং Mitsubishi-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
Honda-র জন্য এই চুক্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পিকআপ বাজারে তুলনামূলক দ্রুত ও কম ঝুঁকিতে প্রবেশের সুযোগ। Mitsubishi-র জন্য এর অর্থ, থাইল্যান্ডের কারখানায় আরও বেশি পিকআপ উৎপাদন করা। নতুন গাড়ির প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে যেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, সেখানে একই ল্যাডার-ফ্রেম নতুন করে উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতায় নামার চেয়ে খরচ ভাগাভাগি করাই অনেক বেশি যুক্তিসংগত।
Mitsubishi L200 ইতিমধ্যেই দেশের সরকারি গাড়িবহরে পরিচিত একটি নাম। পুলিশ থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের মতো বিভিন্ন সংস্থার কাজে এই পিকআপ দেখা যায়। দেশে এর সংযোজনের ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশে Honda ও Mitsubishi-র ডিলারশিপগুলোর মধ্যেও ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে Honda-র ব্যাজযুক্ত পিকআপটি অনেক দেশের আগেই বাংলাদেশের দেখা যাওয়ার কিঞ্চিৎ সম্ভাবনা আছে। Honda হয়তো এই অঞ্চলে তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ পিকআপ আনছে, কিন্তু কঠিন কাজের বড় অংশটি ইতিমধ্যেই করে রেখেছে Mitsubishi।
অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ পিকআপ ট্রাক আনছে Honda। তবে একটি ছোট্ট সমস্যা: গাড়িটি Mitsubishi-র কাছ থেকে ধার করা।