নকল ম্যানুয়াল আনছে Lexus
ছবিঃ Lexus
যখন Toyota আসন্ন GR GT-তে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ব্যবহারের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে, তখন এর বৈদ্যুতিক বিলাসবহুল আত্মীয়টি এক অনিভব উপায়ে ম্যানুয়াল অনুভূতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এখানে “অনুভূতি” শব্দটা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক Lexus LFA-তে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের অভিজ্ঞতা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হতে পারে। এতে চালক গিয়ার বদলানোর অনুভূতি পাবেন, অথচ বাস্তবে ক্লাচ চালানোর প্রয়োজন থাকবে না।
Toyota এমন একটি ব্যবস্থার জন্য পেটেন্ট আবেদন করেছে, যেখানে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক মোটরের টর্ক নিয়ন্ত্রণ করে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনের অনুভূতি তৈরি করা হবে। CarBuzz প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে বাজারে আসন্ন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক Lexus LFA-তে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হবে।
তবে Lexus এখনও নিশ্চিত করেনি চূড়ান্ত গাড়িতে এই ব্যবস্থা থাকবে কি না। আপাতত এটি নিছক একটি পেটেন্ট।
পেটেন্ট আবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বৈদ্যুতিক মোটরের টর্ক পরিবর্তন করে গিয়ার বদলানোর অনুভূতি তৈরি করবে এই ব্যবস্থা। কৃত্রিমভাবে গিয়ার বদলানোর সময় টর্ক প্রথমে শূন্যে নেমে যাবে, তারপর আবার ফিরে আসবে। ক্লাচ চাপে থাকা অবস্থায় যুক্ত হলে যে ঝাঁকুনি অনুভূত হয়, সেটি নকল করতে টর্ক সাময়িকভাবে নির্ধারিত মাত্রার চেয়েও বেশি হতে পারে। চালকেরা Sport বা Race-এর মতো বিভিন্ন প্রোফাইলও বেছে নিতে পারবেন, যার মাধ্যমে কৃত্রিম গিয়ার বদলের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ স্টিয়ারিং হুইলের প্যাডেলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। LFA Concept-এ এমন প্যাডেল দেখা গেছে। তবে থাকবে না কোনো আক্ষরিক ক্লাচ প্যাডেল, ক্লাচ মেকানিজম কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা। গাড়িটি আপনাকে পুরো প্রক্রিয়াটিই অভিনয় করে দেখাবে।
Toyota-এর পেটেন্টে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সমিশনে অভ্যস্ত চালকদের কাছে বাস্তব ক্লাচ ব্যবহার জটিল হতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়িচালকদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যাদের ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নেই। ক্লাচ প্যাডেল বাদ দিলে কৃত্রিমভাবে আরও দ্রুত গিয়ার বদলানো সম্ভব হবে। পুরো বিষয়টি এমনভাবে নকশা করা হচ্ছে, যাতে ধারাবাহিকভাবে গিয়ার বদলানো যায় এমন রেসিং গিয়ারবক্সের আচরণ অনুকরণ করা সম্ভব হয়।
গাড়ির এমন নাটকীয়তার নজির অবশ্য আগেও রয়েছে। Hyundai ইতিমধ্যেই Ioniq 5 N-এ N e-shift সুবিধা দিচ্ছে, যেখানে টর্ক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক গাড়িতে গিয়ার বদলানোর অনুভূতি তৈরি করা হয়। Porsche-ও এইরকম এক ধরনের প্রযুক্তির জন্য পেটেন্ট আবেদন করেছে। অনেক গাড়ি প্রতিষ্ঠানই মনে করে, কিছু চালক বৈদ্যুতিক গাড়িতেও ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স থাকার অনুভূতি চান, যদিও বাস্তবে দুটির কোনোটিই প্রয়োজন নেই।
LFA Concept প্রথম উন্মোচিত হয়েছিল ২০২৫ সালে Monterey Car Week এবং Japan Mobility Show-তে। সে সময় গাড়িটির নাম ছিল Lexus Sport Concept। পরবর্তী সময়ে জনসমক্ষে প্রদর্শিত সংস্করণগুলোতে স্টিয়ারিং হুইলে প্যাডেল দেখা গেছে। এতে ধারণা করা যায়, বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটিকে আরও আকর্ষণীয় করার উপায় খুঁজছে Lexus।
গাড়িটির শক্তি উৎপাদন, ব্যাটারির ধারণক্ষমতা এবং এক চার্জে চলার দূরত্ব সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অবশ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স আর বাস্তব ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স এক জিনিস নয়। এখানে ক্লাচের চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে না, গিয়ারে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সামলাতে হবে না, এমনকি চালকের কাজের সঙ্গে গিয়ারের কোনো যান্ত্রিক সংযোগও থাকবে না। সফটওয়্যার কেবল টর্কের মাত্রা পরিবর্তন করে এসবের অনুভূতি তৈরি করবে।
যাঁরা আসল ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ উপভোগ করেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি অর্থহীন মনে হতে পারে। কিন্তু এর জন্য একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্রেতা রয়েছেন। তাঁরা বৈদ্যুতিক গাড়ির পারফরম্যান্স ও ব্যবহারের সুবিধা চান, পাশাপাশি জ্বালানি ইঞ্জিনচালিত স্পোর্টস কারের শব্দ, অনুভূতি আর চালানোর রীতিনীতিও উপভোগ করতে চান। ব্যাপারটা অনেকটা আম আর ছালা দুটোই একসঙ্গে চাওয়ার মত।
এই প্রযুক্তি বৈদ্যুতিক LFA-কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, নাকি আরেকটি বিরক্তির উৎস হয়ে উঠবে; তা সময়ই বলে দেবে।
যখন Toyota আসন্ন GR GT-তে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ব্যবহারের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে তখন এর বৈদ্যুতিক বিলাসবহুল আত্মীয়টি এক অনিভব উপায়ে ম্যানুয়াল অনুভূতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এখানে “অনুভূতি” শব্দটা গুরুত্বপূর্ণ।