মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিষিদ্ধ BYD

ছবিঃ BYD

নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখিয়ে জাপানের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে চীনা ব্র্যান্ড BYD-এর সকল গাড়ি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা Yonhap-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের Okinawa-তে অবস্থিত Kadena Air Base-এ BYD-এর গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। গত সোমবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ঘাঁটির নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ট্যাক্সি, ডেলিভারির গাড়ি এবং ঠিকাদারদের ব্যবহৃত গাড়িসহ সব BYD গাড়িকে ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে বাধা দিতে।

Kadena Air Base জাপানের Okinawa দ্বীপে অবস্থিত, যা Tokyo থেকে প্রায় ১,০০০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থাপিত। ঘাঁটিটির লেফটেন্যান্ট কর্নেল Alli Stormer সংবাদমাধ্যম Reuters-কে বলেন, “এই গাড়িগুলো আমাদের কর্মীদের এবং আমাদের মিশনের জন্য এক অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে, যা প্রশমিত করা সম্ভব নয়।”

তবে গাড়িগুলো ঠিক কীভাবে এত বড় ঝুঁকি তৈরি করছে, তার ব্যাখ্যা দেননি Stormer। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক BYD গাড়ি, ট্রাক ও SUV-তে থাকা ক্যামেরা এবং সেন্সর সামরিক স্থাপনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, গাড়ির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের আশঙ্কার কারণে গাড়ি নিষিদ্ধ করার কাজটা প্রথম করেছিল চীন। ২০২১ সালে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চীনের কিছু সরকারি স্থাপনায় Tesla গাড়ির প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। চীনে তৈরি Tesla গাড়িগুলো দেশটির তথ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করার পর ২০২৪ সালে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, BYD-এর নাম Pentagon-এর চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে। জুনে প্রকাশিত তালিকার নতুন সংস্করণে চীনা গাড়ি নির্মাতা Nio, ই-কমার্স জায়ান্ট Alibaba এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Baidu-এর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উচ্চ শুল্ক এবং চীনা গাড়ির সফটওয়্যারসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কোনো চিনা গাড়ি প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করতে পারেনি। অন্যদিকে, Geely-এর মালিকানাধীন Polestar-ও সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতার কারণ তুলে ২০২৬ এর পর মার্কিন বাজার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি তৈরি হত যুক্তরাষ্ট্রের South Carolina অঙ্গরাজ্যের Ridgeville-এ অবস্থিত কারখানায়। অর্থাৎ গাড়িগুলো ছিল পুরোপুরিই আমেরিকান।

এখন কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা এমন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছেন, যার মাধ্যমে চীনা গাড়ির যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা যাবে। নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো যথার্থ কি না, নাকি জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত ব্যবহার করে দেশীয় গাড়ি নির্মাতাদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

Previous
Previous

১০৩ কোটি টাকায় বিক্রি হতে পারে Ferrari-র রেস কার

Next
Next

ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ফিরিয়ে আনছে Subaru