১০৩ কোটি টাকায় বিক্রি হতে পারে Ferrari-র রেস কার

ছবিঃ Gooding & Company

সত্যিকারের Ferrari Le Mans হাইপারকার ট্র্যাকে চালানোর স্বপ্ন দেখেছেন কখনও? Christie’s সেই সুযোগ নিয়ে এসেছে। তবে পকেটে থাকতে হবে ১০৩ কোটি টাকা।

আগামী মাসে Geneva-তে অনুষ্ঠিত নিলামে ২০২৪ সালের Ferrari 499P Modificata নিলামে তুলবে সংস্থাটি। গাড়িটির সম্ভাব্য দাম ৭৫ লাখ Swiss franc-এর বেশি, যা প্রায় ৮২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা ১০৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শুধু ট্র্যাকে চালানোর জন্য তৈরি এই গাড়িটি কারখানায় প্রাথমিক পরীক্ষামূলক চালনার বাইরে আর কখনও চালানো হয়নি। এত বিরল Ferrari-র জন্য এটি বেশ দুর্লভ ব্যাপার।

499P Modificata গাড়িটি Ferrari 499P-এর গ্রাহকদের জন্য তৈরি সংস্করণ। 499P রেসিং হাইপারকারটি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে Le Mans-এর ২৪ ঘণ্টার রেসে সামগ্রিকভাবে জয়ী হয়েছিল। ২০২৩ সালে Mugello-তে Ferrari Finali Mondiali অনুষ্ঠানে প্রথম দেখানো হয় গ্রাহক সংস্করণটি। এর উৎপাদনও হয়েছে খুব সীমিত সংখ্যায়।

499P Modificata উন্মোচনের সময় Ferrari-র Head of GT Sporting Activities Antonello Coletta গাড়িটিকে "ফেরারির অতীতের প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং এর ভবিষ্যতের এক ইশতেহার" বলে বর্ণনা করেছিলেন।

গাড়িটির পাওয়ারট্রেনে রয়েছে টুইন-টার্বোচার্জড ৩.০-লিটারের V6 ইঞ্জিন এবং ২৬৮ হর্সপাওয়ারের বৈদ্যুতিক মোটর। সব মিলিয়ে শক্তি ৬৯৭ হর্সপাওয়ার। তবে Push to Pass ফাংশন চালু করলে সর্বোচ্চ সাত সেকেন্ডের জন্য আরও ১৬১ হর্সপাওয়ার পাওয়া যায়। ফলে মোট শক্তি বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫৮ হর্সপাওয়ারে।

সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৮ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। 100 কোটি টাকার Ferrari-র জন্য সংখ্যাটি খুব একটা চমকপ্রদ মনে নাও হতে পারে। তবে 499P Modificata জনসাধারণের রাস্তায় চালানোর জন্য তৈরি হয়নি। এর ককপিট ও চালকের বসার অবস্থান আসল রেসিং গাড়িটির আদলেই রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো চালককে সত্যিকারের endurance মেশিন চালানোর অভিজ্ঞতা নেওয়া।

গাড়িটির সাথে আসবে Ferrari-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত Sport Prototipi Clienti কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ। ২০২৪ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে মালিকেরা Ferrari-র আয়োজিত ট্র্যাক ইভেন্টে নিজেদের গাড়ি চালাতে পারেন। উল্লেখ্য Modificata গাড়িগুলো মূলত আয়োজিত ট্র্যাক ইভেন্টের জন্য তৈরি। মালিকেরা এই জটিল গাড়িগুলোকে চালু রাখার জন্য Ferrari-র কাছ থেকে এমন মাত্রার কারিগরি সহায়তা পান, যা সাধারণ সুপারকার কিনলে পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে ৮.৩ মিলিয়ন ডলারের Ferrari কেনা দিবাস্বপ্নই। তবে যাঁদের পক্ষে এত টাকা খরচ করা সম্ভব, তারা এই বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে পাবে একটি Le Mans-বিজয়ী গাড়ির প্রযুক্তি থেকে তৈরি একটি মেশিন ট্র‍্যাক অভিজ্ঞতার সুযোগ, যার মূল্য টাকা দিয়ে হিসাব করা কিছুটা কঠিন।

Previous
Previous

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান

Next
Next

মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিষিদ্ধ BYD