ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ফিরিয়ে আনছে Subaru

ছবিঃ Subaru

বর্তমানে Subaru নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত থাকলেও গাড়িপ্রেমীদের কথা ভুলে যায়নি। তাদের জন্য এই জাপানি নির্মাতা ফিরিয়ে আনছে ছয়-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সসহ WRX।

আগামী মাসেই জাপানে নিয়মিত উৎপাদন তালিকায় যুক্ত হবে নতুন মডেলটি। নতুন WRX-এ থাকবে Subaru-এর পূর্বের WRX STI-তে ব্যবহার করা TY85 ছয়-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স। এত দিন জাপানের বাজারে WRX S4 গাড়িটি CVT গিয়ারবক্স সহ কিনতে পাওয়া যেত। তাই জাপানের গাড়িপ্রেমীদের জন্য জন্য সত্যিকারের ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে স্বাগত পরিবর্তন।

সম্প্রতি Subaru ছয়-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সসহ WRX STI Sport♯ বাজারে এনেছিল। তবে সেই গাড়িটির মাত্র ৬০০টি উদাহরণ তৈরি করা হয়েছিল। আর ক্রয় করার সুযোগ বন্টন করা হয়েছিল লটারির মাধ্যমে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন WRX-এ ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স নিয়মিত লাইনআপের অংশ হবে। অর্থাৎ এই গাড়িটি কেনার সুযোগের জন্য ভাগ্যের উপর নির্ভর করতে হবে না।

তবে এই গিয়ারবক্স ফিরিয়ে আনার কাজটি সহজ ছিল না। ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের উৎপাদন গুটিয়ে আনছিল বিভিন্ন নির্মাতা, আর বিদ্যুতায়নের অগ্রযাত্রায় Subaru-ও TY85-এর উৎপাদন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি জানতে পারে, তাদের এক সরবরাহকারীর কারখানার গিয়ারবক্সটির উৎপাদন লাইন এখনো সচল রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে Subaru ছোট একটি প্রকৌশলী দল গঠন করে। গাড়িটি তৈরি করার জন্য তাদের সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র এক বছর। গিয়ারবক্সটির উৎপাদন কীভাবে আবার চালু করা হয়েছিল, তা নিয়ে Subaru ইতিমধ্যে একটি উন্নয়নমূলক তথ্যচিত্রও প্রকাশ করেছে।

ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রকৌশলীরা নতুন গাড়ির ইঞ্জিনের কন্ট্রোল সফটওয়্যারেও পরিবর্তন এনেছেন, যাতে থ্রটলে সাড়া আরও দ্রুত হয়। লক্ষ্য হলো, টার্বোচার্জড ইঞ্জিনটিকে এমনভাবে সাড়া দিতে শেখানো, যেন সেটি স্বাভাবিকভাবে বাতাস টেনে নেওয়া (Naturally aspirated) ইঞ্জিনের মতো আচরণ করে। এতে চালকের ডান পায়ের নির্দেশের সঙ্গে গাড়ির প্রতিক্রিয়া আরও সরাসরি হবে। প্রকৌশলগত উন্নয়নের সময় Subaru তাদের রেসিং কার্যক্রম থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়েছে।

পরীক্ষামূলক চালকেরা জানিয়েছেন, ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের সঙ্গে বর্তমান WRX-এর আরও শক্তপোক্ত চ্যাসিস মিলিয়ে গাড়িটির চালানোর অভিজ্ঞতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। নতুন এই গাড়িটিতে আগের টার্বোচার্জড ২.৪-লিটারের ফ্ল্যাট-ফোর বক্সার ইঞ্জিনটিই ব্যবহার করা হবে। তবে ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে শক্তি বা টর্ক বাড়বে কি না, তা Subaru নিশ্চিত করেনি।

তুলনার জন্য বলা যায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হওয়া WRX থেকে পাওয়া যায় ২৭১ হর্সপাওয়ার। জাপানের সংস্করণটির চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন এখনও প্রকাশ করা হয়নি। দাম কত হবে, কিংবা সাসপেনশন, ব্রেক ও নকশায় আরও পরিবর্তন আসবে কি না, সেসবও অজানা।

ছবিঃ Subaru Performance-B STI Concept

আর এই ম্যানুয়াল WRX Subaru-এর বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ মাত্র। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সসহ তিনটি মডেল বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির: নতুন WRX, ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সসহ BRZ-এর একটি সংস্করণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পাঁচ দরজার হ্যাচব্যাক।

BRZ-এর নতুন সংস্করণটি গত বছরের সীমিত উৎপাদনের STI Sport Type RA-এর ভিত্তিতে তৈরি হবে। নতুন গাড়িটিতে ইঞ্জিন শক্তি বাড়ানোর চেয়ে ওজন কমানো এবং হ্যান্ডলিং উন্নত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, হ্যাচব্যাকটির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। ২০২৫ সালে দেখানো Performance-B STI Concept আদলে গাড়িটি তৈরি হতে পারে। তবে Subaru আপাতত এটিকে শুধু একটি সাশ্রয়ী মডেল হিসেবেই বর্ণনা করেছে। এটি সত্যিকারের হট হ্যাচ হয়ে উঠবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

ছবিঃ Subaru BRZ STI Sport Type RA

এই গাড়িগুলোর কোনোটিই জাপানের বাইরে বিক্রি হবে কি না, Subaru এখনও নিশ্চিত করেনি। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি সুবিধা রয়েছে। দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার অনেকটাই জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারের গাড়ি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব গাড়ি ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ আগে থেকেই রয়েছে।

ম্যানুয়াল WRX যদি শুধু জাপানের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবুও গ্রে মার্কেটের মাধ্যমে কয়েকটি গাড়ি বাংলাদেশে আসতে পারে। লটারিতে জেতার আশায় বসে থাকার বদলে, এখন দেশে একটি নতুন ম্যানুয়াল WRX পাওয়ার জন্য হয়তো সঠিক আমদানিকারক, পর্যাপ্ত টাকা আর কাগজপত্রের ঝামেলা সামলানোর মানসিকতা থাকলেই চলবে।

Previous
Previous

মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিষিদ্ধ BYD

Next
Next

দুর্ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেন Chery-র চেয়ারম্যান