হাইড্রোজেনচালিত বাস আনছে Toyota

ছবিঃ Toyota

ব্যাটারিচালিত অল-ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে বিশ্বের বড় অংশ ঝুঁকে পড়লেও হাইড্রোজেন প্রযুক্তির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি আবারও পুনর্ব্যক্ত করল Toyota।

Isuzu Motors-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে নগর ও আঞ্চলিক রুটে চলাচলের উপযোগী নিজেদের দ্বিতীয় প্রজন্মের হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেল বাস ‘Sora’ উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালে বাজারে আসা Isuzu ERGA EV-র চ্যাসিস ও মেকানিক্স ব্যবহার করে নতুন এই Sora তৈরি করা হয়েছে; যার মূল পার্থক্য হলো এর ছাদে বসানো হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেল পাওয়ারট্রেন। যৌথ এই কারিগরি সহযোগিতা ব্যবহার করে Isuzu-ও নিজস্ব সংস্করণের বাস আনবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ERGA FCV’।

যানবাহনটিতে শক্তি জোগাতে Isuzu-র সরবরাহ করা দুটি ১১০-কিলোওয়াট ক্ষমতার ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা যৌথভাবে ২৯৫ হর্সপাওয়ার এবং ৭১৫ পাউন্ড-ফুট টর্ক উৎপন্ন করে। এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে ১১৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত শক্তি জোগাতে সক্ষম ছাদে স্থাপিত ফুয়েল-সেল স্ট্যাক। পাশাপাশি এতে থাকা ৮৮ kWh লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সহায়তায় বাসটি এক চার্জ ও জ্বালানিতে ১৮৬ মাইলেরও (৩০০ কিলোমিটার) বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে—যা ২০১৮ সালে বাজারে আসা প্রথম প্রজন্মের Sora-র চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। বাসটির ৪৭১ লিটার ধারণক্ষমতার হাইড্রোজেন ট্যাংকগুলো মাত্র ১০ মিনিটে পুরোপুরি রিচার্জ করা সম্ভব। নিয়মিত গণপরিবহন হিসেবে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি, বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তে এসকল বাস একেকটি ভ্রাম্যমাণ জরুরি জেনারেটরে পরিণত হবে; যা বাইরে উচ্চ-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।

বাসটির ইন্টেরিয়রে যাত্রীদের ওঠা-নামার সুবিধার্থে ধাপহীন বা সিঁড়ি ছাড়া একদম ফ্ল্যাট ফ্লোর দেওয়া হয়েছে এবং হুইলচেয়ার সুরক্ষায় যুক্ত করা হয়েছে জন্য ওয়ান-টাচ মেকানিজম। নগর পরিবহন এবং উপনগরী রুটের ওপর ভিত্তি করে চারটি ভিন্ন ক্যাবিন কনফিগারেশনে বাসটি বেছে নিতে পারবেন ক্রেতারা। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য এতে দেওয়া হয়েছে 'Emergency Driver Stop System' (EDSS) এবং 'Driver Status Monitor' (DSM); এই অভিনব প্রযুক্তিচালক অসুস্থ বা অসচেতন হয়ে পড়লে নিজে থেকেই নিরাপদে বাসটিকে থামিয়ে দেবে।

Japan-এর Tochigi প্রিফেকচারের Utsunomiya কারখানায় Isuzu ও Hino Motors-এর সমান অংশীদারিত্বে(৫০:৫০) গঠিত 'J-Bus' কারখানায় এটি তৈরি করা হবে। ২০২৬ অর্থবছরেই (এপ্রিল ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৭) এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে বাজারে Toyota-র কম বিক্রি হওয়া Mirai সেডান দিয়ে হাইড্রোজেনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দেখা গেলেও, বাণিজ্যিক গণপরিবহনের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। বাসের নির্ধারিত রুট, দ্রুত জ্বালানি ভরার প্রয়োজন এবং দীর্ঘ সময় টানা চলার চাহিদা প্রথাগত ব্যাটারি চার্জিংয়ের জটিলতাকে অনায়াসে এড়িয়ে চলে—যা প্রমাণ করে যে ফুয়েল-সেল প্রযুক্তিতে Toyota-র অনড় অবস্থানের পাগলামির পেছনে শেষ পর্যন্ত একটি ধারনামুলক কার্যকর বাণিজ্যিক কৌশল কাজ করছে।

Previous
Previous

বাস্তব হল Street Fighter-এর Lexus

Next
Next

Porsche 944 Shooting Brake উন্মোচন