চালকবিহীন ট্যাক্সি আনছে Toyota

ছবিঃ Toyota

Chery-র প্রধান যখন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন চালকবিহীন পরিবহন ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

Waymo-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে bZ4X-ভিত্তিক একটি স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি বহর তৈরির পরিকল্পনা করেছে Toyota। ২০২৭ সালে Japan-এ গাড়িটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ডান পাশে স্টিয়ারিং থাকা দেশের বাজারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যার মধ্যে সবার আগে রয়েছে Japan। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য এবং Waymo-র কার্যক্রম থাকা অন্যান্য দেশেও এই প্রকল্প সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তৈরি হয়ে যাওয়া গাড়িতে প্রযুক্তি বসানোর পরিবর্তে, Toyota ও Waymo উৎপাদনের সময়ই স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি সংযোজন করার পরিকল্পনা করছে। Toyota City-তে অবস্থিত Toyota-র Takaoka কারখানায় গাড়ি তৈরির সাধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বসানো হবে Waymo-র সেন্সর ও কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার। ডান পাশ দিয়ে চলাচল করা দেশের বাজারের জন্য কারখানায় সরাসরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি সংযোজনের ক্ষেত্রে Waymo-র এটি হবে প্রথম প্রকল্প।

স্বয়ংক্রিয় bZ4X মডেলগুলো সাধারণ ফেসলিফট করা সংস্করণের সঙ্গে একই উৎপাদন লাইনে তৈরি করা হবে। কারখানায় শুরুতেই এই প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এছাড়াও, গাড়ি তৈরির পর আলাদাভাবে প্রযুক্তি সংযোজনের জটিল প্রকৌশলগত কাজ যেমন কমবে, তেমনই উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

ছবিঃ Toyota

Toyota-র Chief Technology Officer জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে গাড়ির সংখ্যা সীমিত রাখা হবে। তবে কতটি গাড়ি তৈরি হবে, কোথায় পরীক্ষা চালানো হবে কিংবা কোন কোন শহর যুক্ত হবে—এব্যাপারে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি দুই প্রতিষ্ঠান। যাত্রীরা কবে থেকে ভাড়ার বিনিময়ে চলাচল করতে পারবেন, সেটিও অনিশ্চিত।

আপাতত ২০২৭ সালকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সে বছর বাণিজ্যিক সেবা চালু হবে, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

Waymo ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা পরিচালনা করছে। পাশাপাশি London ও Tokyo-তে Jaguar I-Pace গাড়ি দিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। Tokyo-তে ২০২৭ সালে সম্পূর্ণ চালকবিহীন বাণিজ্যিক ট্যাক্সি সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। Toyota-র এই প্রকল্পটি Jaguar-ভিত্তিক চলমান পরীক্ষার পাশাপাশি পরিচালিত হবে। অর্থাৎ Japan-এ Waymo-র কার্যক্রমে দুটি আলাদা গাড়ির প্ল্যাটফর্ম থাকবে।

তবে Toyota জোর দিয়ে জানিয়েছে, Waymo-র সঙ্গে এই অংশীদারত্ব ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের জন্য তাদের প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য Vehicle-to-Infrastructure ব্যবস্থা এবং আরও উন্নত চালক-সহায়তা প্রযুক্তি অন্য প্রকল্পের অংশ, এই Robotaxi কর্মসূচির আওতাভুক্ত নয়।

ছবিঃ Waymo

সম্প্রতি নিজেদের বিদ্যমান বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো বিশেষ প্রয়োজনে কাজে লাগানোর আগ্রহ দেখিয়েছে Toyota। bZ4X Robotaxi তার একটি উদাহরণ—একটি প্রতিষ্ঠিত বৈদ্যুতিক গাড়ির প্ল্যাটফর্মকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির আর্থিক ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য এখনো গোপন রাখা হয়েছে। অংশীদারত্বের আর্থিক শর্ত কিংবা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কোনোটিই প্রকাশ করেনি Toyota বা Waymo। Takaoka কারখানায় স্বয়ংক্রিয় গাড়ির জন্য আলাদা উৎপাদন সক্ষমতা রাখা হবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাজ‍্যে প্রকল্প সম্প্রসারণেরও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নেই।

এই Robotaxi কি কখনো বাংলাদেশে আসবে? সম্ভাবনা খুবই কম। ঢাকার সড়ক ব‍্যবস্থা এমনিতেই টেসলার উপদ্রবে অতিষ্ঠ—পাশাপাশি রাস্তায় এমন সব চালক রয়েছেন, যাঁদের কাছে ট্রাফিক আইন আর গাড়ি চালানোর সাধারণ বুদ্ধি মেনে চলা যেন ভিনগ্রহের ধারণা। যে সড়কে মানুষই নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় না, সেখানে একটি যন্ত্রের টিকে থাকা কল্পনাতুল্য।

Previous
Previous

EV মুনাফা নিয়ে বিপাকে Volkswagen

Next
Next

সুরক্ষা পরীক্ষায় শূন্য পেল Chery Tiggo 2