‘৮৪ Jeep Cherokee “চরকি”: এক পাঁচমিশালি জীবন সঙ্গী
ছবিঃ ইমরান আবিদ
বাংলাদেশে বেশিরভাগ Jeep গাড়ির জীবনযাপন বেশ শহুরে। গাড়িগুলোর উঁচু গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, ফোর উইল ড্রাইভ আর দুর্গম পথ দাপিয়ে বেড়ানোর সামর্থ্য থাকলেও, মুষ্টিমেয় কিছু গাড়ি কালেভদ্রে পাকা রাস্তার মায়া ত্যাগ করে। তবে ইউসুফ আমানের ১৯৮৪ সালের Jeep Cherokee-র গল্পটা একটু আলাদা।
আর গাড়িটির একটি নাম আছে। চরকি।
Toyota-র ইঞ্জিন, নতুন Wrangler-এর চাকা আর কয়েক দশকের পুরোনো যন্ত্রাংশের সঙ্গে খাপছাড়া কিছু আধুনিক সংযোজন নিয়ে চরকি এমন এক গাড়ি, যার প্রতিটি যাত্রায় তৈরি হয় নতুন গল্প। আর গাড়ির মালিকের কাছে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইউসুফ আমান পেশাগত জীবনে আনোয়ার গ্রুপের Automotive Division-এর Director of Operations হিসেবে Jeep Bangladesh, Leapmotor Bangladesh, Peugeot Bangladesh এবং Volvo Bangladesh-এর দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তেজগাঁও ও উত্তরায় AG Auto Workshop-এর তদারকী করেন তিনি। গাড়ি নিয়ে তাঁর কাজ যেমন পেশা, তেমনই নেশা। আর তাঁর সংগ্রহের মধ্যে চরকির জায়গাটা আলাদা।
“গাড়িটা আমার কাছে হঠাৎ করেই আসে,” ইউসুফ বলেন। “যখন চার বছর আগে আমাদের প্রথম Jeep Life ইভেন্টে সিলেটের লালাখালে যাই, তখন গাড়িটা দেখে আমার এত ভালো লাগে যে জন কুপার ভাইকে বলতে শুরু করি, আপনার কাছে এতগুলো গাড়ি আছে, সবগুলোর যত্ন নেওয়ার সময় পান না, আমাকে এই গাড়িটার দায়িত্ব নিতে দিন।”
শেষ পর্যন্ত কোনো সাধারণ কেনাবেচার মধ্য দিয়ে নয়, এক গাড়িপ্রেমীর কাছ থেকে আরেক গাড়িপ্রেমীর হাতে উপহার হিসেবেই চরকি আসে তাঁর কাছে।
“আমরা Jeepers-রা বিশ্বাস করি, শুধু টাকা দিয়ে একটা Jeep কেনা যায় না। এটা আসলে এক গাড়িপ্রেমী থেকে আরেকজন গাড়িপ্রেমীর কাছে ভালোবাসার হস্তান্তর।”
তবে চরকিকে সচল রাখার কাজটা মোটেও সহজ নয় । বাংলাদেশে ২০২০ সালের আগে Jeep-এর আনুষ্ঠানিক ডিলার ছিল না। আশির দশকের এই Chrysler-এর যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। কুপার যখন গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় খুজে পান, চরকির ইঞ্জিন বে ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। আসল ইঞ্জিন ও ট্রান্সমিশন বাতিল হয়ে গিয়েছিল বহু বছর আগেই। গাড়িটিকে সচল করতে তিনি একটি Toyota LiteAce-এর ইঞ্জিন আর গিয়ারবক্স বসান। গাড়ির ভাষায় এমন আবিষ্কারকে বলা যায় barn find—দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কোনো গাড়িকে উদ্ধার করে আবার রাস্তায় ফিরিয়ে আনার গল্প।
তবে ইউসুফের হাতে চরকি আসার পর এক দুর্ঘটনার জের ধরে আবার বদলে যায় গাড়িটির ইঞ্জিন।
কক্সবাজার থেকে Jeep Life-এর “Waves of Hope” ইভেন্ট শেষে ঢাকা ফেরার পথে কাচপুর ব্রিজে একটি ট্রাক গাড়িটির সামনের বাঁ দিকে ধাক্কা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়িটির ফেন্ডার ও হেডলাইট। তবে ক্ষুব্ধ না হয়ে ইউসুফ দুর্ঘটনাটিকে গাড়িটির উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখেন।
“আমি ভাবলাম, দুর্ঘটনা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে গাড়িটাকে আরও ভালো করা যাক। কী করা যায়? তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, আরও শক্তিশালী ইঞ্জিন লাগাব।”
বড় ইঞ্জিন বসানোর ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত Toyota Mark II-এর Beams ২০০০ ইঞ্জিনটি বাছাই করেন তিনি। ইঞ্জিন বসানোর আগে মাপজোখ করে নিশ্চিত হন, নতুন ইঞ্জিনটি মূল চ্যাসিসে বড় ধরনের পরিবর্তন না এনেই বসানো যাবে। গাড়িটির মূল কাঠামো অক্ষত রাখাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
“গাড়িটাকে চালাতে হবে, আবার এর মূল চেহারাটাও ধরে রাখতে হবে। তাই এমন একটি ইঞ্জিন বেছে নিয়েছি, যেটি চ্যাসিসে হাত না দিয়েই বসানো সম্ভব,” তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম।
AG Auto Workshop-এ পুনর্গঠনের কাজ করান তিনি। বেশিরভাগ কাজ তিনি নিজেই তদারকি করেছেন।
“আমার মনে হয়, প্রায় সারাক্ষণই গাড়িটার সামনে বসে ছিলাম। কাজটা যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে হচ্ছে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।”
ইঞ্জিনটি কত শক্তি উৎপাদন করে, সে বিষয়ে অবশ্য ইউসুফ নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিতে পারেন না।
“যথেষ্ট—এটাই সঠিক উত্তর হবে। গাড়ির স্পিডোমিটার কাজ করে না। আমি শুধু জানি, ওই গাড়িটাকে তাড়া করতে হবে, অথবা আমাকে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে হবে। এর বাইরে গতি মাপার কোনো উপায় আমার নেই।”
তবে চরকিকে নিছক Toyota-চালিত একটি পুরোনো SUV ভাবলে ভুল হবে। গাড়িটির কোনো পরিবর্তনের পেছনেই ছিল না নির্দিষ্ট পরিকল্পিত নকশা। যা ভালো লেগেছে, সেটাই করা হয়েছে।
“এই গাড়ির কোনো ড্রয়িং বোর্ড ছিল না, কোনো স্কেচ ছিল না। ভালো লাগবে, লাগাও—এই ছিল ব্যাপারটা।”
গাড়িটির বর্তমান চেহারায় সেই স্বতঃস্ফূর্ততার ছাপ স্পষ্ট। গাড়িটিতে এখনো টিকে আছে Chrysler-এর মার্কামারা কাচ, আসল টেইললাইট। চাকা গুলোও Chrysler-এর, কিন্তু প্রায় অর্ধশতাব্দী নতুন। ইউসুফ বড় চাকা পছন্দ করেন। তাই গাড়িতে বসিয়েছেন নতুন JL Jeep Wrangler-এর অরিজিনাল রিম আর টায়ার। Jeepers-র এই নিয়ে প্রায় ঠাট্টা করে বলে, চরকির চেয়ে চরকির চাকার দাম বেশি।
তবে এই বড় চাকার সঙ্গে এসেছে কিছু বিদঘুটে সমস্যা। বলাবাহুল্য, গাড়িটি যখন যুক্তরাজ্যে নকশা করা হয়েছিল তখন প্রকৌশলীরা চিন্তা করেনি কেউ এত বড় চাকা বসাবে। প্রথমদিকে পেছনের চাকা চলার সময় হুইল আর্চের সাথে ঘষা লেগে ঘর ঘর শব্দ করতো। সিলেটে দীর্ঘ যাত্রায় সেই ঘষা লাগার চিহ্ন টায়ার ও বডিতে এখনো রয়ে গেছে। ইউসুফের কাছে এগুলো গাড়িটির ইতিহাসেরই অংশ।
নতুন চাকাসহ চরকির সারা শরীরে আছে বিভিন্ন আলোর উৎস। মূল হেডলাইগুলো LED পাশাপাশি অতিরিক্ত আলো বসানো হয়েছে হুডের পাশে। সামনের ফগ ল্যাম্পগুলো তাঁর ছোট ভাইয়ের উপহার। এসব সংযোজন প্রয়োজন থেকেই এসেছে। Jeep Life-এর বিভিন্ন অভিযানে ইউসুফ প্রায়ই গাড়িটি নিয়ে নেতৃত্ব দেন। কখনো কখনো Jeep কনভয়ের সামনেও থাকতে হয়। অন্ধকারে কাঁচা রাস্তা ও দুর্গম পথে চলার সময় এই বাড়তি আলো খুব কাজে লাগে।
এত পরিবর্তনের পরও গাড়িটির বাইরের অংশে এখনও আশির দশকের অনেক নমুনা অক্ষত রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আগের মালিকদের কিছু ব্যক্তিগত সংযোজন। পূর্বের একজন মালিক গাড়িটি পাশজুড়ে একটি সোনালী পিনস্ট্রাইপ এঁকেছিলেন। ইউসুফের মতে সেটি গাড়ির সাথে বেশ মানিয়ে যায়, তাই তিনি রেখে দিয়েছেন। অন্যদিকে, গাড়ির সামনের ফেন্ডারের Jeep ব্যাজটি লালাখালের দুর্ঘটনায় ভেঙে যাওয়ার পর তিনি নতুন কোনো ব্যাজ লাগাননি। তাঁর কাছে মূল যন্ত্রাংশের গুরুত্ব এতটাই বেশি, যে ভুল কোনো ব্যাজ বসানোর পরিবর্তে তিনি জায়গাটি খালি রাখাই ভালো মনে করেন।
চরকির নামের পেছনেও আছে এমন এক স্মৃতি। আর দশটা সাধারণ মানুষের মতই ইউসুফের চালানোর অভ্যাস ABS-যুক্ত গাড়ি। কিন্তু চরকিতে ABS তো দুরের কথা, ডিস্ক ব্রেক পর্যন্ত নেই। লালাখালে যাওয়ার পথে ৩০০ ফিটের একটি মোড়ে রাস্তায় বালু দেখে তিনি ব্রেক চাপতেই চাকাগুলো লক হয়ে যায়। গাড়িটি ঘুরে যায় চরকির মতো।
সেই মুহূর্তেই ঠিক হয়ে যায় নামটি।
চরকির ইঞ্জিন, চাকা আর বাহ্যিক চেহারায় অনেক পরিবর্তন হলেও ভেতরের অংশ এখনও আশির দশকেই আটকে আছে। ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি আধুনিক একবিংশ শতকের গতরের জন্য নকশা করা হয়নি। Cherokee-তে জায়গা সীমিত, বিশেষ করে পেছনের সারিতে। লম্বা মানুষের জন্য সেখানে দীর্ঘ সময় বসে থাকা রীতিমতো শাস্তির মতো। লেখক এই গাড়িতে করে একবার ঢাকা থকে সিলেট আট ঘণ্টা যাত্রা করেছিল। যাত্রাটা ছিল যতটা বেদনাদায়ক, ঠিক ততটাই স্মরণীয়।
অন্যদিকে, গাড়িটির লাগেজ স্পেস বেশ বড়। এত বড় যে গাড়িটির আসল অতিরিক্ত চাকা ভেতরেই রাখা হতো। তবে নতুন বড় টায়ারের কারণে আগের স্পেয়ার টায়ার রাখার জায়গাটিও এখন আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে জায়গা বেড়েছে আরো জরুরি যন্ত্রাংশ রাখার।
তবে চরকির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর কোনো কিছুই সবসময় চালকের কথা শোনে না। পাওয়ার উইন্ডো কখনো কাজ করে, কখনো করে না। মিরর অ্যাডজাস্টারও নিজের ইচ্ছেমতো চলে। এসি থাকলেও সেটিকে কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বলার আগে দুবার ভাবতে হয়। ইউসুফের ভাষায়, এটি এসির চেয়ে ফ্যান হিসেবেই বেশি পরিচিত।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান গাড়িটা যখন প্রথম আবার সচল করা হয়েছিল তখন এসি কম্প্রেসারটি বাদই দেওয়া হয়েছিল। যখন চরকি তার হাতে আসে গাড়িতে কোন এসি ছিল না। সেই অবস্থাতেই Jeep Life-এর একটি অভিযানে প্রচণ্ড গরমে জানালা খুলে যাত্রা করার পর নিজ দায়িত্বে একটি ছোট কম্প্রেসর যুক্ত করেন তিনি। ভবিষ্যতে বড় কম্প্রেসর বসিয়ে ঠান্ডা করার ক্ষমতা বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
গাড়িটির কিছু আধুনিক সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছিল, তবে সেগুলোর অবস্থাও খাপছাড়া। ব্যাকআপ ক্যামেরা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সেটি আর মেরামত করা হয়নি। ইউসুফ নিজেও ক্যামেরা ব্যবহার করেন না; আয়না দেখেই গাড়ি পেছনে নেন। সিস্টেমটি খুলে ফেলার পরিকল্পনাও তার নেই তাঁর মতে, সেটি খুলতে গেলে তারের কাজ করতে হবে, ভিতরের ট্রিম খুলতে হবে এবং মনে হবে আরো এটা সেটা ঠিক করে ফেলি। আর একবার সেটা শুরু হলে পুরো বিষয়টি একদিনের বদলে এক বছরের প্রকল্প হয়ে যেতে পারে।
হ্যাঁ ইচ্ছা হলে গাড়িটিকে একেবারে কারখানা থেকে বের হওয়া আদি রূপে রূপান্তরিত করতে পারেন। কিন্তু তাতে তাঁর আগ্রহ নেই। চরকির ইঞ্জিনের খ্যাপাটে আচরণ, ইলেকট্রনিক্স সিস্টেমের খামখেয়ালি, আর ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন, সবই স্মৃতি। সেগুলো বিলীন করে দেবার কোন ইচ্ছে নেই তার।
এই অদ্ভুত স্বভাবই চরকিকে তাঁর কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রতিবার গাড়িটি বের করার সময় চালককে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। কখন কোন অংশ কাজ করবে, কোনটি করবে না, সেটি যেন একটি লটারি।
“এই গাড়িটাকে নিয়ে কোনো ট্রিপে গেলে চালককে সবসময় মানিয়ে নিতে হয়। গাড়িটা এখন কীভাবে আচরণ করবে, সেটা বুঝে নিতে হয়। এতে ড্রাইভিংটা আরও মজার হয়ে ওঠে।”
ইউসুফ সুযোগ পেলেই গাড়িটি চালান। কখনো শহরে, কখনো দীর্ঘ ভ্রমণে, কখনো Jeep Life-এর অভিযানে। শহুরে রাস্তার বাইরে চলার সময় গাড়িটির সক্ষমতা যেমন কাজে লাগে, তেমনি এর অদ্ভুত আচরণও প্রতিটি যাত্রাকে আলাদা করে তোলে।
আর এই গাড়ির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন শুধু নিজের শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলেও চরকিকে ভালোবাসে। অনেক দিন গাড়িটি চালানো না হলে সে নিজেই বাবাকে বলে, এবার চরকিকে নিয়ে বের হওয়া দরকার।
“প্রতিবার গাড়িটা নিয়ে বের হলে নতুন একটা স্মৃতি তৈরি হয়। এখন আমার ছেলের সঙ্গেও সেই স্মৃতিগুলো তৈরি হচ্ছে। এটাই আমাকে সবচেয়ে আনন্দ দেয়।”
চরকির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইউসুফের কোনো নির্দিষ্ট নকশা নেই। গাড়িটিকে আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা আছে, কিন্তু তার আগে ব্রেকের উন্নতি প্রয়োজন। বর্তমানে ড্রাম ব্রেক থাকা অবস্থায় বড় ইঞ্জিন বসানোর ঝুঁকি নিতে চান না তিনি।
“আগে নিরাপত্তা, তারপর শক্তি,” ইউসুফ বলেন।
চরকি নিখুঁতভাবে পুনর্নির্মিত কোনো ক্লাসিক গাড়ি নয়। এটি এক পুরোনো Jeep, যার শরীরে আছে আগের মালিকের ব্যক্তিগত ছাপ, দুর্ঘটনার আঁচড়, Toyota-র যন্ত্রাংশ, Wrangler-এর চাকা এবং বহু প্রজন্মের স্মৃতি। প্রতিটি অংশকে কারখানার অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেয়ে গাড়িটিকে সচল রাখা, তার মূল চরিত্র ধরে রাখা এবং আরও কিছুদিন একসঙ্গে পথ চলাই ইউসুফের কাছে বড় কথা।
চরকি হয়তো আর কখনো আগের মতো হবে না। কিন্তু ইউসুফ আমানের কাছে সেটিই তো আসল কথা—গাড়িটিকে শুধু সংরক্ষণ করে সাজিয়ে রাখা তাঁর লক্ষ্য নয়, বরং তিনি চান গাড়িটি চালিয়ে যেতে, নতুন গল্প তৈরি করতে এবং প্রতিটি যাত্রায় আবারও একটু চরকি খেতে।
বাংলাদেশে বেশিরভাগ Jeep গাড়ির জীবনযাপন বেশ শহুরে। গাড়িগুলোর উঁচু গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, ফোর উইল ড্রাইভ আর দুর্গম পথ দাপিয়ে বেড়ানোর সামর্থ্য থাকলেও, মুষ্টিমেয় কিছু গাড়ি কালেভদ্রে পাকা রাস্তার মায়া ত্যাগ করে। তবে ইউসুফ আমানের ১৯৮৪ সালের Jeep Cherokee-র গল্পটা একটু আলাদা।
আর গাড়িটির একটি নাম আছে। চরকি।