ছবিঃ Toyota
Toyota-র হাইব্রিড গাড়ি নির্ভরযোগ্যতা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সুপরিচিত। তবে এই খ্যাতি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে রাজি নয় জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তী প্রজন্মের হাইব্রিড গাড়িগুলোকে আরও বেশি সাশ্রয়ী করতে সম্পূর্ণ নতুন ইঞ্জিন পরিবার তৈরি করছে Toyota। নতুন মডিউলার চার সিলিন্ডারের পেট্রোল ইঞ্জিনটি দুই সংস্করণে পাওয়া যাবে—ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড এবং টার্বোচার্জড। ১.৫ লিটারের এই ইঞ্জিনটি Toyota-র বর্তমান ১.৮ লিটার ও ১.৫ লিটারের ইঞ্জিনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট। উল্লেখ্য, নতুন ইঞ্জিনগুলো বিদ্যমান কোনো পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপর ভিত্তি করে বানানো নয়, বরং গোঁড়া থেকেই হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির উপযোগী করে নকশা করা হয়ছে।
নতুন এই নকশায় Toyota ইঞ্জিন, হাইব্রিড সিস্টেম এবং পাওয়ার ইলেকট্রনিকসকে একসঙ্গে একটি সমন্বিত পাওয়ারট্রেন তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, যান্ত্রিক ক্ষয় কমানো, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক শক্তির অপচয় কমানোর মাধ্যমে নতুন ১.৫ লিটার ইঞ্জিনগুলো ১৫ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারবে। এছাড়াও ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী প্রজন্মের হাইব্রিড ও PHEV গাড়িগুলোতে বায়ুপ্রবাহজনিত বাধা বা অ্যারোডাইনামিক ড্র্যাগ কমানো হলে সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
তবে পরিকল্পনাটি শুধু নতুন ইঞ্জিন তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। Toyota তার পাশাপাশি আরও হালকা ও ছোট আকারের বৈদ্যুতিক মোটর এবং পাওয়ার কন্ট্রোল ইউনিট তৈরি করছে। এর মধ্যে থাকবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সিলিকন কার্বাইড (SiC) পাওয়ার ইলেকট্রনিকস। পুরো পাওয়ারট্রেনজুড়ে শক্তির অপচয় কমানোই এসব প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য।
নতুন ইঞ্জিনগুলো Toyota-র আসন্ন মাল্টি-পাথওয়ে ভেহিকল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যাবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি প্ল্যাটফর্ম প্রথমে পেট্রোল ইঞ্জিনের জন্য তৈরি করে পরে সেটিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়। Toyota এবার ভিন্ন পথ অনুসরণ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এবার শুরু থেকেই EV-কেন্দ্রিক আর্কিটেকচার তৈরি করছে। Toyota-র বিশ্বাস, এতে উৎপাদনের লাভের হার বাড়বে এবং বিভিন্ন পাওয়ারট্রেনের সংস্করণেও কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স ধরে রাখা সম্ভব হবে।
হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে একই মৌলিক ভেহিকল আর্কিটেকচার ব্যবহার করা হবে। Toyota-র দাবি, এতে গাড়ির বাইরের নকশা, কেবিনের জায়গা কিংবা ব্যবহারিক সক্ষমতার সঙ্গে আপস করতে হবে না। হাইব্রিড ব্যবস্থার যন্ত্রাংশগুলো আরও ছোট হওয়ায় গাড়ির বনেট নিচু রেখে আরো আগ্রাসী নকশা তৈরি করাও সম্ভব হবে। ফলে ডিজাইনাররা পাবেন বাড়তি স্বাধীনতা।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে ধীরগতি জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছিল Toyota। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে ধীর হয়ে গেছে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিকাশ, অন্যদিকে বেড়েছে হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি। প্রমাণিত হয়েছে Toyota-র মাল্টি-পাথওয়ে কৌশলটির কার্যকারিতা। প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু ব্যাটারিচালিত গাড়ির মধ্যে EV-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম সীমাবদ্ধ না রেখে হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলেও ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের সাধারণ গাড়ি ক্রেতাদের জন্য এই নতুন প্রজন্মের হাইব্রিড সুবিধাজনক হতে পারে। বর্তমানে প্রতি লিটার জ্বালানির সর্বোচ্চ দাম ১৬৫ টাকা। গুঞ্জন রয়েছে, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে। তাই জ্বালানি দক্ষতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে অনেকেরই মাসিক জ্বালানি খরচে বিপুল সাশ্রয় হবে।
এ ছাড়া এসব গাড়ির কিছু মডেল জাপান থেকে আমদানির পরিবর্তে বাংলাদেশেই সংযোজনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দশক শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে Toyota Bangladesh। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে Toyota-র পরবর্তী প্রজন্মের হাইব্রিড গাড়িগুলোও একসময় দেশের মাটিতেই তৈরি হতে পারে।
প্রায় তিন দশক ধরে চীনের বাজারে জাপানে তৈরি গাড়ি বিক্রি করে আসছে Lexus। এবার সেই ব্যবসায়িক কৌশলে আসতে যাচ্ছে বড় পরিবর্তন।