Tesla Roadster-কে ১০/ ১০ দিল Ferrari

ছবিঃ Tesla

Tesla-র নতুন Roadster-এর প্রযুক্তি ও উপস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন Ferrari-র CEO Benedetto Vigna।

Reuters-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, Quattroruote আয়োজিত একটি অটোমোটিভ সম্মেলনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় গাড়িটিকে দুই বিভাগেই ১০-এর মধ্যে ১০ দিয়েছেন তিনি।

Vigna বলেন, “একজন ইউরোপীয় হিসেবে, আমাদের দেখানোর জন্য আপনাদের (Tesla) ধন্যবাদ—পুরোনো বিশ্বেও যে নতুন কিছু উদ্ভাবন এবং সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।”

Texas-এর Waco শহরের কাছে McGregor-এ SpaceX-এর রকেট পরীক্ষাকেন্দ্রে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল Tesla। আয়োজনের শুরুতে Roadster গাড়ীটি একটি র‍্যাম্প বেয়ে উঠে উল্টো অবস্থায় শক্তিশালী সাকশন ফ্যানের সাহায্যে র‍্যাম্পের সঙ্গে আটকে থাকে। এরপর গাড়িটি র‍্যাম্প থেকে লাফ দিয়ে মাঝ আকাশে ডিগবাজি দিয়ে কমপ্রেসড-গ্যাস থ্রাস্টারের সাহায্যে মাটিতে মসৃণভাবে অবতরণ করে।

উড়তে পারা এই গাড়িটিকে Tesla ২০২৮ মডেল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ গাড়িটি ওই বছরে বাজারে আসতে পারে। উল্লেখ্য, Roadster-এর প্রথম পরীক্ষামূলক মডেলটি দেখানো হয় নয় বছর আগে, তখন ঘোষণা করা হয়েছিল গাড়িটি বাজারে আসবে 2020 সালে। এরপর সেই ঘোষণা চারবার পেছানোর পর এই নতুন রূপে গাড়িটি আবার আত্মপ্রকাশ করল।

তবে গাড়ি সরবরাহের সময়সীমা কিংবা প্রকল্পটির আর্থিক উদ্বেগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি Vigna। তাঁর প্রশংসার মূল বিষয় ছিল প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও উপস্থাপনা।

Vigna বলেন, “এই গাড়িটি প্রমাণ করে যে অটোমোটিভ জগতে এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে। আমাদের স্বপ্ন দেখা চালিয়ে যেতে হবে।”

গাড়িটির নতুন নকশার জন্য Tesla-র বাইরের একটি ডিজাইন স্টুডিওর সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেছেন Vigna। তাঁর মতে, নতুন চিন্তাভাবনা একটি গাড়িকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যা কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা অর্জন করা কঠিন।

তিনি বলেন, “আমরা যদি নিজেরাই সব কাজ করতাম, তাহলে যা তৈরি করেছি, তা করতে পারতাম না।”

Vigna-র শেষ মন্তব্যটি Ferrari-র নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ির উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে ইঙ্গিত করে বলা। প্রতিষ্ঠানটির তাদের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মডেল Luce-এর ডিজাইন প্রক্রিয়ায় জন্য Iphone-এর ডিজাইনার Jony Ive এবং তার ডিজাইন স্টুডিও LoveFrom-এর সঙ্গে কাজ করেছে।

ছবিঃ Ferrari

তবে নতুন সেই Ferrari অনেককেই মুগ্ধ করেনি। ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক চেয়ারম্যান Luca di Montezemolo কট্টর সমালোচনা করেছেন Luce-এর নকশার। তিনি বলেন, “আমি যদি সত্যিই যা মনে করি, তা বলি, তাহলে Ferrari-র ক্ষতি করব।” গাড়িটি “একটি কিংবদন্তিকে ধ্বংস করার” ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর যোগ করেন, “আমি আশা করি, অন্তত ওই গাড়ি থেকে Prancing Horse \[Ferrari-র লোগো\] সরিয়ে নেওয়া হবে।”

Luce-এর নকশার সমালোচনা করে di Montezemolo বলেন, “অন্তত এই গাড়ির নকশা চীনারা আমাদের কাছ থেকে নকল করবে না।”

সমালোচনা সত্ত্বেও, Luce-এর ভালো বিক্রি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে গাড়িটির দাম ৫৬০,৮০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ১ লাখ টাকা। V12 ইঞ্জিনচালিত Purosangue-এর প্রারম্ভিক দাম ৪৩৮,৬১০ ডলার বা প্রায় ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, Luce-এর দাম Purosangue-এর চেয়ে ১২২,১৯০ ডলার বা প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি। তবে ব্যাটারিচালিত গাড়ির উন্নয়নের পাশাপাশি Ferrari আবার বায়োফুয়েলের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। কারণ, ইটালিয় প্রতিষ্ঠানটি ঘুব ভালোমতই জানে, তাদের মূল ক্রেতারা কি চায়।

Vigna-র প্রশংসা থেকে মনে হয়, তিনি বিশ্বাস করেন ঝুঁকি নিতে এবং নিজেদের প্রকৌশল দক্ষতা দর্শনীয়ভাবে তুলে ধরতে Tesla-র যে পারদর্শিতা, তা থেকে গোটা গাড়ি শিল্পের শেখার আছে। তবে Roadster শেষ পর্যন্ত সময় মত বাজারে আসবে কিনা, বা আদৌ বাজারে আসবে কিনা, সেটি সময়য়ই বলে দেবে।

Previous
Previous

APMC-তে বাংলাদেশের প্রথম পডিয়াম জয়

Next
Next

বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান